avertisements
Text

অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান / ফারহান আরিফ

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী : মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, উলটোরথে বাংলাদেশ

প্রকাশ: ১০:১৩ পিএম, ২০ ডিসেম্বর,সোমবার,২০২১ | আপডেট: ১১:০৩ এএম, ২৯ জানুয়ারী,শনিবার,২০২২

Text

১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ অধুনালুপ্ত দৈনিক বাংলায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রচিত ‘একটি জাতির জন্ম’ শীর্ষক প্রবন্ধটি প্রকাশিত হয়। প্রবন্ধটির শেষাংশ এমন, ‘সময় ছিল অতি মূল্যবান। আমি ব্যাটালিয়নের অফিসার, জেসিও আর জওয়ানদের ডাকলাম। তাদের উদ্দেশে ভাষণ দিলাম...... তাদের নির্দেশ দিলাম সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হতে। ......তখন রাত ২টা বেজে ১৫ মিনিট। ২৬ মার্চ, ১৯৭১ সাল। রক্তের আঁখরে বাঙালির হৃদয়ে লেখা একটি দিন। বাংলাদেশের জনগণ চিরদিন স্মরণ রাখবে এই দিনটিকে। স্মরণ রাখবে, ভালোবাসায়। এই দিনটিকে তারা কোনদিন ভুলবে না। কোনো-দি-ন-না।’ ত্রিশ লক্ষ শহীদ আর দুই লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে আজ আমরা যে স্বাধীন বাংলাদেশের আলো-বাতাস উপভোগ করছি তার শুরুটা ছিল এমন। 

১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে পাক হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে পৃথিবীর মানচিত্রে সগৌরবে অভ্যুদয় ঘটে বাংলাদেশ নামক স্বাধীন রাষ্ট্রটির। নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে যে নতুন পরিচয় পেয়েছে এ জাতি তার মূল চেতনা ছিল, ‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার।’ একটি বৈষম্যহীন মানবিক সমাজ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণের লক্ষ্যে এদেশের আবালবৃদ্ধবনিতা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিল। কিন্তু স্বাধীনতার অব্যবহিত পরই বাঙালীর সেই আত্মত্যাগকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করা হয়। স্বাধীনতা যুদ্ধের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য ছিল একটি গণতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মাণ। কিন্তু শেখ মুজিবুরের শাসনকালে তাতে মরিচা পড়ে যায়। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালের জাতীয় নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির মধ্য দিয়ে জনগণের প্রত্যাশা ফিকে হতে শুরু করলো। এ নির্বাচনে জনগণের ভোট ছিনতাই করা হল, যা ছিল এদেশের সাধারণ মানুষের কাছে এক অকল্পনীয় ঘটনা। নির্বাচনে জয়লাভ করল একজন, আর ঘোষণা করে দেয়া হল একজন আওয়ামী লীগারের নাম। এ ধরনের নির্বাচনের সাথে মানুষ পরিচিত ছিল না। এমনকি ১৯৭০ সালের নির্বাচনেও এরূপ ঘটেনি। ১৯৭৩-পরবর্তী সময়ে শেখ মুজিবুর রহমান জনগণের টুঁটি চেপে ধরার জন্য একের পর এক কালাকানুন জারি করতে লাগলো। ১৯৭৪ সালে বিশেষ ক্ষমতা আইন, নিউজপ্রিন্ট নিয়ন্ত্রণ আইন, সরকারি কর্মচারীদের লেখালেখিতে নিষেধাজ্ঞা আইন ইত্যাদির মাধ্যমে মানুষের মৌলিক অধিকার তথা মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করা হল। বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের মূল আকাক্সক্ষাসমূহকে হত্যা করে দেশে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হল। রক্ষীবাহিনীর হত্যা, খুন ও অত্যাচারে মানুষের জীবন ছিল জেরবার। আওয়ামী লীগের অপশাসন, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার ফলে দেশ নিপতিত হল ১৯৭৪ সালে দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাসে। এমন পটভূমিতে সংঘটিত হয় ১৫ই আগস্টের নির্মম হত্যাকান্ড। ১৯৭৫ সালের এই তারিখে শেখ মুজিব নিজ দলের লোকজনেরই যোগসাজশে সপরিবারে প্রাণ হারান। নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির এক অংক থেকে আরেক অংকে পদার্পণ করে বাংলাদেশ। 

রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার ঘোর সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের পঙ্কিল কর্দমে নিপতিত হয়ে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব মারাত্মক ঝুঁঁকির মুখে পড়ে। এমন ক্রান্তিকালে ১৯৭১-এর মত আরো একবার ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও এর প্রতিষ্ঠাতা মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান আওয়ামী লীগ কর্তৃক পদদলিত মুক্তিযুদ্ধের আকাক্সক্ষাকে পুনরুদ্ধার করেন। দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, স্বনির্ভর অর্থনীতি, উৎপাদনের রাজনীতি, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মানুষের মৌলিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার যে বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন, সে বাংলাদেশকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে স্থান করে দিয়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সমর্থ হয়েছিলেন। দুর্ভিক্ষের বাংলাদেশে কৃষি বিপ্লব ও খালকাটা কর্মসূচির মাধ্যমে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও স্বনির্ভর জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের এ অগ্রযাত্রা চক্রান্তকারীদের সহ্য হয়নি। তাইতো তারা আধুনিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা জিয়াউর রহমানকে থামিয়ে দিতে সচেষ্ট হয়। সাহসী দেশপ্রেমিক জিয়া ১৯৮১ সালের ৩০শে মে চট্টগ্রামে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীদের যোগসাজশে সেনাবাহিনীর কতিপয় বেপথু সৈনিকের গুলিতে শাহাদাতবরণ করেন। 

সেই থেকে বাংলাদেশ আরেকবার পথ হারালো। নতুন করে স্বৈরশাসকের করতলগত হল বাংলাদেশ। স্বৈরাচার এরশাদের বন্দুক, কামানের নিয়ন্ত্রণ থেকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সমগ্র বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেন বেগম খালেদা জিয়া। মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য তথা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের গুরুদায়িত্ব বহন করে এক কণ্টকাকীর্ণ পথ পাড়ি দেন তিনি। একজন গৃহবধূ থেকে ক্রমশ তিনি এদেশের মানুষের কাছে নন্দিত হন আপসহীন নেত্রী, দেশনেত্রী থেকে দেশমাতা রূপে। মুক্তিযুদ্ধের হৃত চেতনা তথা ‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার’ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হল। হোঁচট খাওয়া গণতন্ত্র ফিরে এলো আবার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে। .

কিন্তু দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ঝান্ডাধারী গণতন্ত্রকামী বেগম খালেদা জিয়া ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে চক্রান্ত থেমে থাকেনি। আজ স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি হয়ে গেলেও এই আধিপত্যবাদী শক্তির তাঁবেদার, দুর্নীতিবাজ গোষ্ঠীর নাগপাশ থেকে বাংলাদেশ পূর্ণরূপে মুক্তি পায়নি। কেবল রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থের উদ্দেশ্যে দেশের বৃহৎ একটি জনগোষ্ঠীকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে; ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে। বিরুদ্ধ মত প্রকাশ করা মাত্রই গুম, খুনের শিকার হতে হচ্ছে। গণতন্ত্র, মানবাধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতার মত রাজনৈতিক অধিকারের বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান তলানিতে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চেতনা নিয়ে স্বাধীনতা লাভ করা বাংলাদেশ এখনো গণতন্ত্র সূচকে ‘হাইব্রিড রেজিম’ হিসেবে অবস্থান করছে। দ্য ইকোনমিক ইন্টেলিজেন্স ইউনিট পরিচালিত এ বছরের বৈশ্বিক গণতন্ত্রের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৬৫টি দেশের মধ্যে ৭৬তম। প্রতিবেদনে বলা হয়, হাইব্রিড রেজিমে অবস্থিত দেশসমূহে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থার অভাব রয়েছে। এছাড়া আইনের শাসন, সুশীল সমাজ, অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির দুর্বলতা এসব দেশসমূহে প্রকট। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা উপেক্ষিত; সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে রাষ্ট্রীয় মদদে দমন করা হচ্ছে। এ বছরের ১৪ অক্টোবর নেদারল্যান্ডসভিত্তিক ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্ট কর্তৃক পরিচালিত এক প্রতিবেদনে আইনের শাসনের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৪তম। গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আইনের শাসন, ভোটাধিকার ইত্যাদির এমন দুরবস্থার ফলেই সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট কর্তৃক আয়োজিত গণতন্ত্র সম্মেলনে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এটি মূলত আমাদের গণতন্ত্রের দুরবস্থার বিষয়টিকেই চিত্রায়িত করে। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের এমন অপমানজনক অবস্থান যেন সেই শেখ মুজিবের বাকশাল আমলের কথাই মনে করিয়ে দেয়। কেবল গণতন্ত্রের বিপন্ন অবস্থাই নয়; বরং গণতন্ত্রের অনুপস্থিতিতে পুরো রাষ্ট্রের কঙ্কালসার অবস্থা বেরিয়ে আসছে। একদলীয় নব্য বাকশাল ব্যবস্থার অধীনে দুর্নীতির এক স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। ব্যাংক লুট, শেয়ারবাজার লুটসহ নানা আর্থিক কেলেঙ্কারি, মেগা প্রজেক্টের নামে দেশের জনগণের ভ্যাট, ট্যাক্সের টাকা হাতিয়ে নেয়ার এক মহোচ্ছব চলছে দেশজুড়ে। স্বৈরাচার এরশাদের পতনের পর বাংলাদেশ ধীরে ধীরে যে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও গণতন্ত্রায়নের পথে এগুচ্ছিলো, সে পথে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয় ২০১২ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে। একটি নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে পরিচালিত তিনটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ গণতন্ত্রায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছিলো। কিন্তু সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রের পরিচালক প্রতিষ্ঠানসমূহের শক্তিশালী অবস্থানে আসার আগেই এ পথকে রুদ্ধ করে দেয়া হল। মূলত এর মাধ্যমে একটিমাত্র রাজনৈতিক দলের ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করা এবং একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দুরভিসন্ধিকে আনুষ্ঠানিকতা দেয়া হয়। শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় কাঠামো গড়ে উঠার পূর্বেই এমন একটি হঠকারিতামূলক সিদ্ধান্তের ফলে একটিমাত্র রাজনৈতিক দল তথা আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ ক্ষমতা ভোগের লাইসেন্স প্রতিষ্ঠা করে। নিরঙ্কুশ ক্ষমতা ও দুর্বল রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যকার বিরাট পার্থক্যের ফলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে তাদের ভোগবিলাসের নিয়ামকে রূপান্তরিত করে ফেলেছে। এ যেন পঁচাত্তর-উত্তর বাংলাদেশেরই পুনরাবৃত্তি। 

ইতিমধ্যে দেশব্যপী এক মাৎস্যন্যায় পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটেছে। আঙ্গুল ফুলে কলাগাছে পরিণত হচ্ছে সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের এই লুটপাটের সাক্ষ্য বহন করে বাংলাদেশের ব্যাংকব্যবস্থা ও শেয়ারবাজার। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই ডিএসই-এর সূচকে মারাত্মক বিপর্যয় ঘটে। শেয়ারবাজারের সেই অস্থিরতার ডামাডোলে ক্ষমতাসীন প্রভাবশালীরা বিরাট অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিশন শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির সে ঘটনার উপর দেয়া তদন্ত প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে দু’টি মামলা দায়ের করা হয়। সেই প্রতিবেদনে সরকারদলীয় এমপি সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন বেক্সিমকো গ্রুপের ব্যাপারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হয়। উল্লেখ্য যে, বেক্সিমকো গ্রুপ ২০০৯ সালে শেয়ার মার্কেট থেকে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা উঠিয়ে নেয়। কেবল তাই নয়; ১৯৯৬ সালেও তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির ঘটনায় সালমান এফ রহমানের নামে দু’টি মামলা করা হয়েছিল। কিন্তু উচ্চ আদালত মামলাগুলোকে কোয়াসমেন্ট দিয়ে দেয়। এভাবে বিএসইসির উদাসীনতা এবং রাজনৈতিক চাপের মুখে বেক্সিমকো, শাইনপুকুর সিরামিকস-সহ ক্ষমতার বলয়ে থাকা ব্যক্তিদের কোম্পানিসমূহ পার পেয়ে যায়। 

আওয়ামী লীগ সরকার আমলের আর্থিক কেলেঙ্কারি কেবল এখানেই থেমে থাকেনি। এ সরকারের গত এক যুগেরও বেশি সময়কার শাসনামলজুড়েই আলোচিত রয়েছে ব্যাংকখাতের নানা অনিয়ম। গত এক যুগকে ব্যাংক লুটপাটের যুগ বললে সেটা অত্যুক্তি হবে না। ঋণের নামে ব্যাংকে রাখা জনগণের আমানতের টাকার যথেচ্ছ লুটপাট করা হয়েছে। খেলাপি ঋণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ব্যংকগুলো এক ভয়াবহ নজির স্থাপন করেছে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালের ১লা মে ড. আতিউর রহমান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিযুক্ত হন। তিনি যখন দায়িত্ব গ্রহণ করেন তখন ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ ছিল ৩৭,৭৮০ কোটি টাকা। টানা সাত বছর দায়িত্ব পালন শেষে তিনি যখন পদত্যাগ করেন তখন অবলোপনসহ ব্যাংকিং খাতে ১ লাখ ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা খেলাপি ঋত রেখে যান (দৈনিক বণিক বার্তা : ১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮)। ২০১৮ সালের ৪ জুন দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালার সুষ্ঠু প্রয়োগ উপেক্ষিত থাকার ফলে ব্যাংকিং খাতে এমন ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসে। কোন আবেদন-জামানত ছাড়াই অসাধু ব্যক্তিবর্গকে এসব ঋত দেয়া হয়, যা পরবর্তীতে উঠিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। এক্ষেত্রে সরকারদলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সন্তুষ্টি ও সমৃদ্ধি সাধনেই সরকারের খেয়াল গোচরীভূত হয়। দৈনিক কালের কণ্ঠে ২০১৭ সালের ২৭ মার্চ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, অন্তত ৬০০ বড় বড় ঋণখেলাপিকে নানা কৌশলের আশ্রয় নিয়ে ঋণখেলাপিদের তালিকা বহির্ভূত রাখা হয়েছে। ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করতে দেখা যায়। উদাহরণস্বরূপঃ জনতা ব্যাংকের মূলধন ৪ হাজার ২৩৩ কোটি টাকা। ব্যাংক নীতিমালা অনুযায়ী মূলধনের ২৫ শতাংশ ঋণ প্রদানের নিয়ম থাকলেও জনতা ব্যাংক কেবল এননটেক্স ও ক্রিসেন্ট লেদার নামক দুইটি কোম্পানিকেই যথাক্রমে ৫ হাজার ও ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ প্রদান করে! এই ঋণ ব্যাংকটির একক ঋণসীমার চার গুণ অতিক্রম করেছে (দৈনিক যুগান্তর : ১০ এপ্রিল, ২০১৮)। ২০১৭ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি দৈনিক বণিক বার্তার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের মোট প্রদেয় ঋণের ২৫ শতাংশই রয়েছে চার শিল্প প্রতিষ্ঠান তথা বেক্সিমকো, এননটেক্স, এস আলম এবং ক্রিসেন্ট লেদারের কাছে। এসব ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে ঋণ বিতরণ সংক্রান্ত কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা করা হয়নি। অপর রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সোনালি ব্যাংকও ঋণ কেলেঙ্কারির কারণে দেশজুড়ে আলোচিত ছিল। ২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে সোনালি ব্যাংকের প্রভাবশালী কর্তাদের যোগসাজশে হলমার্ক গ্রুপকে অন্তত ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ পাইয়ে দেয়া হয়। নীতিবিরুদ্ধ এই ঋণ পাইয়ে দেয়ার কুশীলবদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রয়োগে সরকারকে আন্তরিক মনে হয়নি। জন অসন্তোষের মুখে হলমার্কের তানভির ও জেসমিন দম্পতিকে গ্রেফতার করা হলেও তাদেরকে যারা সহযোগিতা করেছিল তাদের ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি। সোনালী ব্যাংকের তৎকালীন এমডি হুমায়ুন কবিরের ব্যাংকিং পেশায় কোন অভিজ্ঞতা না থাকলেও রাজনৈতিক বিবেচনায় তাকে এ পদে আসীন করা হয়। দায়িত্ব নিয়েই তিনি তার প্রভাব খাটিয়ে কমিশনের বিনিময়ে অনৈতিক ঋণ পাইয়ে দিতে বিভিন্ন অসাধু ব্যক্তিবর্গকে সহযোগিতা করেন। সোনালি ব্যাংকের সাবেক এ কর্মকর্তা এখন দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। সরকারের উদাসীনতায় তাকে এখন পর্যন্ত বিচারের মুখোমুখি হতে হয়নি। তাছাড়া ঋণের নামে লোপাট হয়ে যাওয়া অর্থও হলমার্ক গ্রুপের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। 

সোনালি, জনতা, অগ্রণী ব্যাংকের মত সরকারি মালিকানাধীন বেসিক ব্যাংকও আওয়ামী লীগ সরকারের ব্যাংক লুটপাটের আরেকটি দৃষ্টান্ত। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত বেসিক ব্যাংক হতে ঋণের নামে নেয়া হয়েছে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা। এ সময়কালে এ ব্যাংকটির এমডি ছিলেন আবদুল হাই বাচ্চু। বেসিক ব্যাংকের কেলেঙ্কারির চিত্র সামনে এলে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। কিন্তু এরপরও টাকা  লুটপাট থামানো যায়নি। ৪ আগস্ট, ২০১৮ দৈনিক দিনকালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাচ্চুর অব্যহতির পরও ২০১৪ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত বেসিক ব্যাংক থেকে আরো চার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হয়। দৈনিক প্রথম আলোতে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তারিখে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০০৯ থেকে আবদুল হাই বাচ্চু এমডি থাকাকালীন সময়ে বেসিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার শতকরা ৫ ভাগ থেকে শতকরা ৬৮ ভাগে বৃদ্ধি পায়। কেবল তাই নয়, ব্যাংকটির মোট ৬৮টি শাখার মধ্যে ২১টি শাখাই লোকসান গুনছে। অন্যদিকে ২০১৩ সালে রাজনৈতিক বিবেচনায় নতুন নয়টি ব্যাংককে অনুমোদন দেয়া হয়। এর মধ্যে ফারমার্স ব্যাংকের কেলেঙ্কারি আর সবকিছুকে হার মানিয়েছে। ব্যাংকটির পরিচালক হিসেবে সরকারের মন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর দায়িত্ব নিয়েই এটিকে লুটপাটের আখড়ায় পরিণত করেন। আইসিবি এবং রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংক থেকে শেয়ার মূলধন দিয়েও ব্যাংকটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। দৈনিক যুগান্তরের ৩০শে এপ্রিলের এক প্রতিবেদনে লেখা হয়, ‘২০১৩ সালে অনুমোদন পাওয়া ৯টি ব্যাংকের একটি দ্য ফারমার্স ব্যাংক। ৪০০ কোটি টাকা নিয়ে কার্যক্রম শুরু হয় ব্যাংকটির। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের শেষে ফারমার্স ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৭২৩ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ১৪ দশমিক ১০ শতাংশ। এ সময় পর্যন্ত ব্যাংকটির ঋণ বিতরণ ছিল ৫ হাজার ১৩০ কোটি টাকার বেশি। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে ফারমার্স ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল ১৭১ কোটি টাকা। সে হিসাবে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ৫৫২ কোটি টাকা বা ৩২২ শতাংশ।’ ফারমার্স ব্যাংকের লুটপাটের ভয়াবহতা এতটাই ছাড়িয়ে গিয়েছিল যে, ব্যাংকটিতে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের রাখা জলবায়ু তহবিলের ৫০৯ কোটি টাকা আটকে যায়। জনগণের এ টাকা শেষ পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সরকারের মন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর এবং ব্যাংকটির এমডি মাহবুবুল হক চিশতির যোগসাজশে ঋণ জালিয়াতি, ঋণ প্রদানে কমিশন গ্রহণ, গ্রাহকের হিসাব থেকে নিজের হিসাবে অর্থ স্থানান্তরসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠে। তবে সরকারি দলের সাংসদ মহীউদ্দীন খান আলমগীরের বিরুদ্ধে এসব বিষয়ে কোন আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।  এছাড়াও ইসলামী ব্যাংকে আওয়ামী লীগ সরকারের অযাচিত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়। রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে আসার পর থেকেই ব্যাংকটিতে ধস নামতে শুরু করে। নতুন বোর্ড আসার পর থেকেই ইসলামী ব্যাংকে নানা রকমের অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা শুরু হয়। ব্যাংকিং খাতের এই দুর্নীতি কেবল রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকসমূহেই প্রভাব ফেলেনি; বরং সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের ব্যাংক খাত এক ভয়াবহ রকমের বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। আবেদন-জামানতবিহীন এসব ঋণসুবিধা গ্রহণ করে প্রভাবশালীরা বিদেশে অর্থ পাচারের সর্বোচ্চ সীমা অতিক্রম করে। পানামা পেপার্স কেলেঙ্কারি, প্যারাডাইস পেপার্স কেলেঙ্কারির সাথে জড়িয়ে পড়ে সরকারি মদদপুষ্ট প্রভাবশালীদের নাম। বেনামি কোম্পানিতে অর্থ লগ্নির নামে দেশ থেকে হাতিয়ে নেয়া জনগণের টাকায় বিদেশ-বিভুঁইয়ে অর্থবিত্তের পাহাড় গড়ে তোলে এসব দুর্বৃত্ত। 

ব্যাংকিং খাতে আওয়ামী লীগ সরকারের সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারি ধরা পড়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায়। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে রিজার্ভ চুরির এ ঘটনা ঘটে। বিবিসির তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঐ বছরের ৪ থেকে ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নিউ ইয়র্কস্থ ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের বাংলাদেশ ব্যাংকের একাউন্ট থেকে এক বিলিয়ন ইউএস ডলার চুরির ঘটনা ঘটে। চুরিকৃত অর্থের মধ্যে শ্রীলংকায় ২০ মিলিয়ন এবং ফিলিপাইনে ৮১ মিলিয়ন ইউএস ডলার পাচার করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের অদক্ষতার ফলে এ অর্থ পুরোপুরি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। এখন পর্যন্ত কেবল ফিলিপাইনে পাচার হয়ে যাওয়া ৮১ মিলিয়নের মধ্যে মাত্র ১৮ মিলিয়ন ইউএস ডলার উদ্ধারে সমর্থ হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রিজার্ভ কেলেঙ্কারির মতই বাংলাদেশ ব্যাংক আরেকবার সমালোচনার মুখে পড়ে ভল্টের স্বর্ণের শংকর ধাতুতে পরিণত হয়ে যাওয়ার ঘটনায়। ২০১৮ সালের ২৪ জুলাই দৈনিক প্রথম আলোতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে থাকা ৩০০ কেজি ওজনের সোনার চাকতি শংকর ধাতুতে পরিণত হবার ঘটনা প্রকাশ পায়। এছাড়াও সোনার গুণগত মানে পরিবর্তনের কথা প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভল্টে গচ্ছিত ২২ ক্যারেট মানের সোনা কোন এক দৈব গুণে ১৮ ক্যারেটে পরিণত হয়ে যায়। রিজার্ভ চুরির ঘটনার মতই এ কেলেঙ্কারিরও কোন কুলকিনারা হয়নি। এসব অপরাধের সাথে জড়িত ব্যক্তিবর্গ পর্দার আড়ালেই রয়ে যায়। এছাড়াও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জনগণের টাকা লুটপাটের নির্লজ্জ দৃষ্টান্ত হয়ে আছে ডেসটিনি, ইউনিপে টু সহ কয়েকটি এমএলএম কোম্পানি। সম্প্রতি ইভ্যালি, ধামাকার মত অনলাইন ব্যবসায়িক গ্রুপগুলোর আর্থিক অব্যবস্থাপনার কবলে পড়ে কষ্টার্জিত অর্থ খুইয়েছেন ভোক্তা সাধারণ। কিন্তু এসবের বিপরীতে সরকার কার্যকর কোন প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থতা দেখিয়েছে। 

শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি, ব্যাংক লুটের মত আর্থিক অনিয়মের পাশাপাশি এ সরকারের হরিলুটের আরেকটি ক্ষেত্র হচ্ছে মেগাপ্রজেক্ট। চটকদার মেগাপ্রজেক্টের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করে নিয়েছে সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। টেকসই উন্নয়নকে উপেক্ষা করে অবকাঠামোগত উন্নয়নের আড়ালে জনগণের ট্যাক্সের টাকা লুট করে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে প্রভাবশালীরা। ন্যায়সঙ্গত খরচ না করে, অতিরিক্ত খরচ দেখিয়ে কিংবা কাজের মেয়াদ প্রলম্বিত করে দফায় দফায় বাজেট বৃদ্ধির মাধ্যমে মহাসমারোহে চলছে লুটের উৎসব। এ সরকারের বিজ্ঞাপন হিসেবে ব্যবহৃত পদ্মা সেতু প্রকল্পে চলছে দুর্নীতির মহোৎসব। ২০০৭ সালে এ সেতু নির্মাণ বাবদ ১০,১৬১ কোটি টাকা অনুমোদন করা হয়। ২০১৮ সালের ২৫শে নভেম্বর সেতু নির্মাণ কাজ শেষ হবার কথা থাকলেও ২০২১ সালের ডিসেম্বরে এসেও তা শেষ হয়নি। উপরন্তু বারবার মেয়াদ বাড়িয়ে বর্তমানে এর বাজেট ৩০,১৯৩ কোটি টাকায় বৃদ্ধি করা হয়েছে। রেল সংযোগ প্রকল্পের ব্যয়কে এর সাথে যুক্ত করলে মোট প্রাক্কলিত বাজেট দাঁড়ায় ৬৯,৪৪৫ কোটি টাকা। কাজ সম্পাদনে দীর্ঘসূত্রিতার ফলেই ব্যয়ের পরিমাণ এতোটা বেড়েছে বলে মনে করা হয়। উল্লেখ্য যে, এ সেতু নির্মাণ সংক্রান্ত দরপত্র নিরূপণের দায়িত্ব প্রদানে সুস্পষ্ট দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় বিশ্বব্যাংক প্রকল্পটিতে ঋণচুক্তি বাতিল করে দেয়। 

অন্যান্য মেগাপ্রকল্পগুলোতেও একই রকম লুটপাটের উৎসব চলছে। মেট্রোরেল প্রকল্পে প্রাক্কলিত ব্যয় ২১,৯৮৫ কোটি টাকা থেকে বেড়ে বর্তমানে ১ লাখ ১৫ হাজার কোটিতে বৃদ্ধি পেয়েছে। আবার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পে ১৩,০০০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হলেও কিছুদিনের মধ্যেই তা বাড়িয়ে ১৮,০৩৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আবার ২০১০-১৩ মেয়াদে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও পরবর্তীতে তা ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ প্রকল্পেও একই রকম ঘটনা ঘটেছে। ৮৪৪৬ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে গৃহীত প্রকল্পটির কাজ ২০২০ সালে শেষ হবার কথা থাকলেও এখনো এর কাজ শেষ হয়নি। বরং ১০,৩৯১ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় বাড়িয়ে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন মেয়াদ ধার্য করা হয়েছে। এ সরকারের মেগাপ্রকল্প নির্মাণে অদূরদর্শিতার এক বিরাট দৃষ্টান্ত পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্প। ২০১৩ সালে উদ্বোধন হওয়া এ প্রকল্পটির কাজ শেষ হবার কথা ছিল ২০১৮ সালের জুনে। অথচ ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে এসে অলাভজনক আখ্যা দিয়ে প্রকল্পটির কাজ বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যে রাষ্ট্রের কয়েক হাজার কোটি টাকা নষ্ট হল, সে লোকসান কে পুষিয়ে দিবে তার কোন সদুত্তর পাওয়া যায় না। আওয়ামী সরকারের দুর্নীতির আরেক মহাক্ষেত্র হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প। ২৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল ১১৩,০৯৬ কোটি টাকা, যার সুদ দিতে হবে ৬৯,০০০ কোটি টাকা। ২০২১ সালের মধ্যে এর প্রথম ইউনিটটির কাজ শেষ হবার কথা থাকলেও কাজের কোন অগ্রগতি নেই। এখন তারিখ পিছিয়ে ২০২৪ সাল নির্ধারণ করা হয়েছে। রূপপুর প্রকল্পে দুর্নীতির যে মহাসমারোহ, তা দেখা যায় বিভিন্ন পত্রপত্রিকাগুলোতে। প্রকল্পের প্রতিটি বালিশ কিনতে খুরচ দেখানো হয়েছে ৫৯৫৭ টাকা। আবার সেগুলোকে আবাসিক ভবনের খাটে উঠানোর মজুরি দেখানো হয়েছে বালিশ প্রতি ৭৬০ টাকা। প্রতিটি লেপ বা কম্বলের মূল্য দেখানো হয়েছে ১৬,৮০০ টাকা। অথচ এর বাজারমূল্য হচ্ছে সাড়ে চার হাজার টাকা মাত্র। একটি বিছানার চাদরের দাম দেখানো হয়েছে ৫,৯৩৬ টাকা। ১৬৯ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পে ২০তলা ও ১৬তলা দু’টি ভবন নির্মাণের বিভিন্ন জিনিস কেনাকাটায় এ দুর্নীতির চিত্র পাওয়া যায়। আবার এই প্রকল্পের জনবল প্রশিক্ষণ, চুল্লি নির্মাণ, রড সরবরাহ ইত্যাদি কাজে ২০১৭ সালে ভারতকে যুক্ত করা হয়; অথচ ভারতের নিজেদের পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো রাশিয়ার সহায়তায় নির্মিত। এ সরকারের আরেকটি মেগাপ্রকল্প রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে সুন্দরবন ধ্বংসের পাশাপাশি প্রায় পাঁচ কোটি মানুষের ক্ষতিগ্রস্ত হবার কথা বলেছে ইউনেস্কোসহ অন্যান্য সংস্থার বিশেষজ্ঞগণ। তাছাড়া শেখ হাসিনা এ প্রকল্পে আল্ট্রা সুপার ক্রিটিকাল প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা বললেও ভারতের এনপিটিসির সাথে কৃত চুক্তিতে দেখা যায়, এখানে সুপার ক্রিটিকাল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে প্রকল্পটির কাজ ২০১৯ সালে শেষ হবার কথা থাকলেও দুই বছর পেছানো হয়েছে। সাথে সাথে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে আরো এক হাজার কোটি টাকা। 

বর্তমান সরকারের দুর্নীতির আরেক দৃষ্টান্ত হচ্ছে স্বাস্থ্য খাত। একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকারসমূহের অন্যতম সুলভ স্বাস্থ্যসেবা পাবার অধিকার থেকে দেশবাসী যে কেবল বঞ্চিতই হচ্ছে তা নয়; বরং এ খাতে সরকারের ছত্রছায়ায় চলছে প্রভাবশালীদের দৌরাত্ম্যপণা। সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যসেবার নিয়ন্ত্রণ চলে গিয়েছে একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটের কাছে। তারা সংবেদনশীল এ বিষয়টিকে নিজেদের লুটপাটের ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিয়েছে। বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত ২৫ এপ্রিল, ২০১৮ তারিখে প্রকাশিত এক রিপোর্টে টিআইবি’র বরাত দিয়ে উল্লেখ করা হয়, ‘বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতে কমিশনভিত্তিক বাণিজ্য গড়ে উঠেছে। যেখানে চিকিৎসা ব্যয়ের ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন সরকারি-বেসরকারি চিকিৎসক, সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মী, রিসিপশনিস্ট ও দালালচক্র হাতিয়ে নিচ্ছে। রোগ নির্ণয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ডাক্তার ও দালালদের ১৫ থেকে ৫০ ভাগ কমিশন চুক্তি রয়েছে।’ কেবল তাই নয়, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতে মেডিকেল সরঞ্জামাদি ক্রয়ে এক অভূতপূর্ব দুর্নীতির নজির স্থাপিত হয়েছে। সাড়ে পাঁচ হাজার টাকার একটি বই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ক্রয় করেছে ৮৫,৫০০ টাকায় (বাংলা ট্রিবিউন ঃ ৩০ আগস্ট, ২০১৯)। ঢাকা মেডিকেল কলেজে নাস্তার খরচে যে দুর্নীতির চিত্র দেখা গিয়েছে, তাতে সচেতন নাগরিক সমাজের চক্ষু চড়কগাছে উঠেছে। এসব দুর্নীতির মূলে রয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ছত্রছায়ায় বেড়ে উঠা বিভিন্ন সিন্ডিকেট। নকল ওষুধ সরবরাহ, হাসপাতালের বেড বাণিজ্য, চিকিৎসা সরঞ্জামাদি ক্রয় বাণিজ্য ইত্যাদি নানা রকমের দুর্নীতিতে জেরবার স্বাস্থ্যখাতের ভঙ্গুর দশা ভেসে উঠে সাম্প্রতিক করোনা মহামারিকালে। আইসিইউ না পেয়ে, অক্সিজেন সিলিন্ডারের অপ্রতুলতা, এ্যাম্বুলেন্সের অভাব ইত্যাদি কারণে এক মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়। করোনা ভ্যাকসিন প্রাপ্তিতেও রাজনৈতিক বিবেচনাকে গুরুত্ব দেয়ার ফলে বাংলাদেশ সংকটে পড়েছে। 

সরকারের অব্যবস্থাপনা শিক্ষাখাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। গত ১৩ বছরে একাধিকবার শিক্ষাকাঠামোতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। যার ফলে শিক্ষার্থীরা একটি নির্দিষ্ট শিক্ষাক্রমে স্থির মনোযোগ দিতে পারেনি। পাসের হারে ঊর্ধ্বগতি দেখালেও সেটা যে নামমাত্র ছিল, তা প্রমাণিত হয় শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পরীক্ষায় ব্যাপক ভরাডুবি দেখে। অন্যদিকে প্রশ্ন ফাঁস, অবাধ নকলের উৎসবের ফলে কার্যকর শিক্ষা নিরুৎসাহিত হয়েছে। তাছাড়া রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসমূহে দলীয়করণের মতই পাঠ্যপুস্তকেও দলীয়করণের চূড়ান্ত করা হয়েছে। পাঠক্রম থেকে সঠিক ইতিহাস বাদ দিয়ে কেবল এক ব্যক্তির বন্দনা ও দলীয় স্বার্থানকূল ইতিহাসকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর ২১ অক্টোবর ২০২১ তারিখে প্রকাশিত এক রিপোর্টে দেখা যায়, এষড়নধষ ঞধষবহঃ ঈড়সঢ়বঃরঃরাবহবংং ওহফবী (এঞঈখ) পরিচালিত ২০২১ সালের মেধা সূচকে বাংলাদেশ ১৩৪টি দেশের মধ্যে ১২৩তম অবস্থানে রয়েছে। উক্ত মেধা সূচকে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে। 

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সর্বশেষ এক যুগের শাসনামলে ব্যাপকহারে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিরোধী মত দলনের ঘটনা ঘটেছে। অসহনশীল সরকার সামান্যতম বিরোধিতা করলেও সেটাকে নিষ্ঠুরভাবে দমন করতে সচেষ্ট রয়েছে। সরকারের এই রোষানল থেকে কেবল বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দই নয়; সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণী, পেশার মানুষ-কেউই নিস্তার পায়নি। বিরোধী মত দলনে বর্তমান সরকারের কর্মকান্ড যেন শেখ মুজিবের শাসনামলকে পুনর্বার স্মরণ করিয়ে দেয়; এমনকি এক্ষেত্রে বর্তমান আওয়ামী সরকারের ভূমিকা মুজিব শাসনামলকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলসমূহের সভা-সমাবেশ থেকে শুরু করে মিছিল, র‌্যালি, এমনকি সাধারণ সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসমূহের উপরেও সরকারের দমননীতি আরোপিত আছে। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও মুক্ত রাজনৈতিক চর্চার আকাক্সক্ষাকে স্তব্ধ করে দেয়া হয়েছে। সরকার বিরোধী রাজনীতির অনুসারী হবার কারণে সারাদেশে প্রায় প্রতিটি কর্মীর মাথার উপর ঝুলছে মামলার খড়গ। ২০১৮ সালে দেশের প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপির প্রকাশিত এক প্রামাণ্য প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, দলটির অনুসারী ৪৫ লক্ষ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অন্তত ৯৫ হাজার গায়েবি মামলা রয়েছে। কেবল মামলাই নয়; বরং রাষ্ট্রীয় মদদে প্রশাসনযন্ত্রকে ব্যবহার করে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদেরকে গুম, জেলখানায় নির্যাতন এবং ক্রসফায়ারের নামে বিচার বহির্ভূতভাবে হত্যা করা হচ্ছে। বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলমসহ অসংখ্য নেতাকর্মীকে গত ১৩ বছরে গুম করা হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর হিসাব অনুযায়ী, গত ১৩ বছরে বাংলাদেশে ৬০৪ জন গুমের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৭৮ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। ৮৯ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে এবং ৫৭ জন কোন না কোনভাবে ফিরে এসেছেন। অন্যরা কোথায় আছেন, কেমন আছেন পরিবারের কাছে তার কোন তথ্য নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও এ ব্যাপারে নিশ্চিত কোন তথ্য দিতে পারেনি। এদের পরিবার-পরিজন এখনো নিজেদের সন্তান, স্বামী কিংবা ভাইয়ের ফেরার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। সরকারি বাহিনী কর্তৃক গুম হওয়া এ তালিকায় কেবল বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীই নন; অনেক মানবাধিকার কর্মী, সংবাদকর্মীরও নাম রয়েছে। সাদা পোশাকধারী পুলিশ কর্তৃক উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর কয়েক সপ্তাহ বা মাসব্যপী নিখোঁজ থাকার পর অনেককে সীমান্তের ওপাড়ে পুশ করে দেয়া কিংবা গ্রেফতার দেখানোর মত ঘটনাও ঘটেছে। বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ, কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের মত আরো অনেকেই আছেন এ তালিকায়। অনেককে মুক্তি দিলেও ভয়ভীতি দেখিয়ে মুখ বন্ধ করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ধর্মীয় বক্তা আবু ত্বহা মুহাম্মদ আদনান, প্রখ্যাত বুদ্ধিজীবী ফরহাদ মজহার, পরিবেশবাদী সংগঠন বেলা’র পরিচালক সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের স্বামীর মত আরো অনেকে আছেন এ তালিকায়। 

ক্রসফায়ারের নামে বিচার বহির্ভূত হত্যার এক ভয়ঙ্কর ত্রাস চালু করেছে বর্তমান সরকার। রাষ্ট্রীয় বাহিনী র‌্যাবকে যথেচ্ছ ব্যবহার করে এসব হত্যাকান্ড ঘটানো হচ্ছে। কক্সবাজারের একরামুল হত্যা, নারায়ণগঞ্জের সেভেন ??

লেখকের আরও লেখা

avertisements
ঢাবির হলে নিপীড়নকারী ছাত্রলীগ কর্মীদের ছাত্রত্ব বাতিলের দাবি
ঢাবির হলে নিপীড়নকারী ছাত্রলীগ কর্মীদের ছাত্রত্ব বাতিলের দাবি
দিনে ৩ কাপ কফি পানে মৃত্যুর ঝুঁকি কমে!
দিনে ৩ কাপ কফি পানে মৃত্যুর ঝুঁকি কমে!
মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা কমলেও সবজি, ডিম, মাছ, পেঁয়াজ, আলুর দাম অপরিবর্তিত
মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা কমলেও সবজি, ডিম, মাছ, পেঁয়াজ, আলুর দাম অপরিবর্তিত
সিইসিও চিকিৎসার জন্য টাকা নিয়েছেন - মাহবুব তালুকদার
সিইসিও চিকিৎসার জন্য টাকা নিয়েছেন - মাহবুব তালুকদার
ইসি আইন গণতন্ত্রকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিবে - কাদের
ইসি আইন গণতন্ত্রকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিবে - কাদের
সহযোগিতা না করতে যুক্তরাষ্ট্রকে চিঠি লিখেছেন মির্জা ফখরুল - তথ্যমন্ত্রী
সহযোগিতা না করতে যুক্তরাষ্ট্রকে চিঠি লিখেছেন মির্জা ফখরুল - তথ্যমন্ত্রী
অপচয়-দুর্নীতি আমাকে পীড়া দেয় - পরিকল্পনামন্ত্রী
অপচয়-দুর্নীতি আমাকে পীড়া দেয় - পরিকল্পনামন্ত্রী
ভূমি অধিগ্রহণে অনিয়মে আমার পরিবারের কেউ জড়িত নয় - শিক্ষামন্ত্রী
ভূমি অধিগ্রহণে অনিয়মে আমার পরিবারের কেউ জড়িত নয় - শিক্ষামন্ত্রী
বাজেট ঘাটতি মেটাতে ৬ মাসে সরকারের ঋণ ৫২ হাজার কোটি টাকা
বাজেট ঘাটতি মেটাতে ৬ মাসে সরকারের ঋণ ৫২ হাজার কোটি টাকা
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ শ্রমবাজার হারাতে যাচ্ছে বাংলাদেশ
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ শ্রমবাজার হারাতে যাচ্ছে বাংলাদেশ
ব্যাংক থেকে ওয়ালটন-ইউনাইটেডের ১৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা
ব্যাংক থেকে ওয়ালটন-ইউনাইটেডের ১৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা
বঙ্গবন্ধু হত্যার ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিল জাসদ : কাজী ফিরোজ রশীদ
বঙ্গবন্ধু হত্যার ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিল জাসদ : কাজী ফিরোজ রশীদ
আরাফাত রহমান কোকো'র ৭ম মৃত্যুবার্ষিকীতে ঢাকা উত্তর যুবদলের শীতবস্ত্র বিতরণ
আরাফাত রহমান কোকো'র ৭ম মৃত্যুবার্ষিকীতে ঢাকা উত্তর যুবদলের শীতবস্ত্র বিতরণ
রউফুন নাহার রিনা সভাপতি জাহানারা বেগম সাধারণ সম্পাদক
রউফুন নাহার রিনা সভাপতি জাহানারা বেগম সাধারণ সম্পাদক
নোয়াখালী আইনজীবি সমিতির নির্বাচনে আওয়ামী প্যানেলের ভরাডুবি
নোয়াখালী আইনজীবি সমিতির নির্বাচনে আওয়ামী প্যানেলের ভরাডুবি
কর্ণেল আজিমের রোগমুক্তি কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
কর্ণেল আজিমের রোগমুক্তি কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
অরাজনৈতিক হয়েও রাজনৈতিক হয়রানির শিকার ডা. জুবাইদা রহমান
অরাজনৈতিক হয়েও রাজনৈতিক হয়রানির শিকার ডা. জুবাইদা রহমান
গণমাধ্যম যখন সঠিকভাবে কাজ না করে তখন বহুমাত্রিক ও গণতান্ত্রিক সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয় -তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী
গণমাধ্যম যখন সঠিকভাবে কাজ না করে তখন বহুমাত্রিক ও গণতান্ত্রিক সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয় -তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী
এ প্রতিহিংসার শেষ কোথায়!
এ প্রতিহিংসার শেষ কোথায়!
জার্মান বিএনপির সভাপতি আকুল মিয়ার মাতার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ
জার্মান বিএনপির সভাপতি আকুল মিয়ার মাতার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ
বিনিয়োগকারীদের ২৪ হাজার কোটি টাকা লাপাত্তা
বিনিয়োগকারীদের ২৪ হাজার কোটি টাকা লাপাত্তা
গুন্ডা-মাস্তান থেকে চেয়ারম্যান হয়েছি-শামিম (ভিডিওসহ)
গুন্ডা-মাস্তান থেকে চেয়ারম্যান হয়েছি-শামিম (ভিডিওসহ)
গুন্ডা-মাস্তান থেকে চেয়ারম্যান হয়েছি-শামিম (ভিডিওসহ)
গুন্ডা-মাস্তান থেকে চেয়ারম্যান হয়েছি-শামিম (ভিডিওসহ)
শিক্ষার টেকসই উন্নয়ন, প্রসার ও কর্মমুখীকরণে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়া ও বিএনপির ভূমিকা
শিক্ষার টেকসই উন্নয়ন, প্রসার ও কর্মমুখীকরণে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়া ও বিএনপির ভূমিকা
মোদি-বিরোধী প্রতিবাদে মৃত্যুর তদন্ত চেয়েছে ১১টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন
মোদি-বিরোধী প্রতিবাদে মৃত্যুর তদন্ত চেয়েছে ১১টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন
ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী নতুন নিয়োগ বিধিমালা নিয়ে অসন্তোষ
ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী নতুন নিয়োগ বিধিমালা নিয়ে অসন্তোষ
ধামরাইয়ে বাসা বাড়িতে দেহ ব্যাবসার অভিযোগ
ধামরাইয়ে বাসা বাড়িতে দেহ ব্যাবসার অভিযোগ
রাজনীতিকে আওয়ামীকরণ
রাজনীতিকে আওয়ামীকরণ
তারেক রহমান যাঁর প্রতীক্ষায় বাংলাদেশ
তারেক রহমান যাঁর প্রতীক্ষায় বাংলাদেশ
ধামরাই থানায় এক মাস ঘুরেও মামলা করতে পারেনি দলিল লেখক
ধামরাই থানায় এক মাস ঘুরেও মামলা করতে পারেনি দলিল লেখক
avertisements
avertisements