avertisements
Text

অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান / ফারহান আরিফ

অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান ও ফারহান আরিফ

জিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণা : ইতিহাসের পুনর্পাঠ

প্রকাশ: ১১:২৩ পিএম, ২৫ মার্চ,শুক্রবার,২০২২ | আপডেট: ০২:৫০ পিএম, ২০ মে,শুক্রবার,২০২২

Text

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম। ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যখন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) ওপর তাদের দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য ‘অপারেশন সার্চলাইট’ শুরু করে, দিশাহীন ও বিভ্রান্ত জাতির জন্য তখন আলোকবর্তিকা হয়ে জ্বলে উঠেছিলেন তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান। জিয়াউর রহমানই বাংলাদেশের প্রথম মুক্তিযোদ্ধা। ২৫শে মার্চ দিবাগত রাতে তাকে তার কমান্ডিং অফিসার লেফট্যানেন্ট জানজুয়া বন্দরে গিয়ে জেনারেল আনসারির কাছে রিপোর্ট করতে বলেন। মূলত এর পেছনে ছিল পাক আর্মির ভয়ংকর নীলনকশা। বাঙালি অফিসারদের মধ্যে সবচেয়ে দূরদর্শী ও স্বাধীনচেতা জিয়াউর রহমানকে সে রাতেই শেষ করে দিতে পারলে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে পাকবাহিনীর পদচারণা নির্বিঘ্ন হতে পারতো। তবে পথিমধ্যে মেজর খালেকুজ্জামান মারফত ক্যাপ্টেন অলি আহমদের সংবাদের ভিত্তিতে কোনোরূপ দেরি না করেই জিয়াউর রহমান তার সিদ্ধান্তটি নিয়ে নিলেন। নিজের জীবন ও পরিবারের নিরাপত্তার কথা দূরে সরিয়ে ‘We Revolt’ বলে যে সংগ্রামের সূচনা শুরু করলেন, তারই প্রেক্ষিতে আজ আমাদের এই বাংলাদেশ, এই পতাকা; বিশ্বের বুকে আমাদের মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো। জিয়াউর রহমান কেবলমাত্র যুদ্ধটা শুরু করেই থামেননি; বরং দিকভ্রান্ত জাতির মনে সাহসের সঞ্চার করেছেন পরদিন কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে মহান স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদান করার মাধ্যমে। দেশের সেই চরম ক্রান্তিলগ্নে যখন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ নিজেদের বাক্স-পেটরা গুটিয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন, তখনই সৈনিক জিয়া সকল অমানিশাকে পাশ কাটিয়ে জাতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। নিজেকে ‘হেড অব দ্য স্টেট’ ঘোষণা দিয়ে মুক্তিকামী জনতার মঞ্চে হাজির হলেন স্বাধীনতার বার্তা নিয়ে। ১৯৮৭ সালের ৪ঠা ফেব্রুয়ারি সাপ্তাহিক মেঘনায় ‘বঙ্গবন্ধু ইয়াহিয়া খানের সাথে স্বাধীনতার প্রশ্নে আপস প্রস্তাব বিবেচনা করেছিলেন’ শিরোনামে আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রাজ্জাকের একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়। আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “...২৭ মার্চ সকালে চায়না বিল্ডিংয়ের কাছে আমার বন্ধু আতিয়ারের বাসায় গেলাম... আমরা যাব বালাদিয়া। নৌকায় শুনলাম হঠাৎ কোনো এক বেতার কেন্দ্র থেকে বলা হচ্ছে, ‘আই মেজর জিয়াউর রহমান ডিক্লেয়ার ইন্ডিপেন্ডেন্স অব বাংলাদেশ।’ বস্তুত জিয়ার এই ঘোষণাই কিংকর্তব্যবিমূঢ় জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত করে। ভারতের ‘দি স্টেটসম্যান’ পত্রিকার ভাষায়, “সেই দুঃসময়ে বাঙালি জাতি ছিল দিশেহারা, দিক নির্দেশনাহীন। ঠিক এই সময়ে মেজর জিয়ার প্রত্যয়দীপ্ত বলিষ্ঠ কন্ঠের ঘোষণা ছিল তূর্যধ্বনির মতো। প্রথমবারে তিনি নিজেকে বাংলাদেশের ‘হেড অব দ্য স্টেট’ উল্লেখ করে স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিলেন।”

কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তীকালে জিয়াউর রহমানের এই অবদানকে অস্বীকার করতে একটি রাজনৈতিক মহল বরাবরই সচেষ্ট থেকেছে। তারা ইতিহাসের পাতা থেকে জিয়ার নাম মুছে দিতে চায়। এমনকি জিয়াউর রহমানকে তারা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অস্বীকার করতে পর্যন্ত প্রয়াস পায়! কিন্তু সত্যের ঔজ্জ্বল্য তো চিরস্থায়ী! নিন্দুকের নিন্দাবাণী কেবল বিদ্বেষই ছড়াতে পারে; প্রকৃত সত্যকে আড়াল করতে পারে না। বরং ইতিহাসের পুনঃ পুনঃ চর্চায় বেরিয়ে আসে সকল চেপে রাখা সত্য।

জিয়াউর রহমানকে নিয়ে এরূপ নোংরা রাজনীতির খেলায় আখেরে লাভ হয়েছে সত্যান্বেষী ইতিহাস পাঠকদেরই। ইতিহাসের পুনর্পাঠে বেরিয়ে এসেছে মুক্তিযুদ্ধকাল ও তারও আগে তৎকালীন রাজনীতিবিদদের ভূমিকা, শেখ মুজিবের মনোবাসনা ও চেতনা ব্যবসায়ীদের স্বরূপ। নতুন করে উন্মোচিত হয়েছে শহীদ জিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণার মাহাত্ম্য।

যুক্তির নিরিখে, নির্মোহ দৃষ্টিকোণ থেকে ইতিহাসের পাতায় চোখ বুলালে আমরা দেখতে পাই, শেখ মুজিবুর রহমান মূলত চেয়েছিলেন ক্ষমতার অংশীদারিত্ব বা স্বায়ত্তশাসন। পাকিস্তানিদের কাছে আত্মসমর্পণের আগে যুক্তরাষ্ট্রের এনবিসি টেলিভিশনের সাথে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন তিনি। সাক্ষাৎকারটি তার আত্মসমর্পণের পরের দিন অর্থাৎ ২৬শে মার্চ প্রচারিত হয়। সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে মুজিব বলেন, “I want to live as like a free bird.” সাংবাদিক তাকে পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, ‘Do you mean independence?’ শেখ মুজিব জবাবে বললেন, “No, I don't mean that. I mean autonomy.” শেখ মুজিবের এই জবানবন্দিতেই প্রমাণিত হয় তার মনোবাঞ্ছা। তবে এরপরেও মুজিবকে দেবতাতুল্য করার প্রয়াসে আওয়ামী লীগ ও এর দোসর চাটুকার বুদ্ধিজীবী সমাজ এ সত্যকে মেনে নিতে অপারগ। উপরন্তু তারা মুক্তিযুদ্ধে অপরাপর বীর সেনানীদের বিরুদ্ধে নিরন্তর কুৎসারত। কিন্তু ইতিহাস কি বলে?

১৯৭২ সালের ১৮ই জানুয়ারি ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড ফ্রস্ট শেখ মুজিবকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “যদি ৭ই মার্চ আপনি বলতেন, আমি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা দিচ্ছি তাহলে কি ঘটতো?” শেখ মুজিবের জবাব ছিল, “বিশেষ করে এই দিনটিতে আমি তা করতে চাইনি যে তারা বলুক, শেখ মুজিব স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে এবং আঘাত হানা ছাড়া বিকল্প নেই।” এমনকি শেখ মুজিব এদিন ভাষণ শেষ করেছিলেন ‘জিয়ে পাকিস্তান’ বলে। বর্তমান আওয়ামী লীগের অনেকের মাঝেই ৭ই মার্চের ভাষণকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা বলে চালিয়ে দেয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। অথচ দেখা যাচ্ছে, শেখ মুজিব নিজেই ২৬শে মার্চকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালন করতেন। তাছাড়া এই ভাষণ প্রদানের পরের দিন কোনো জাতীয় পত্রিকায় এটিকে স্বাধীনতার ঘোষণা বা তদ্রুপ কিছু বলে উল্লেখ করা হয়েছে বলে কোনো প্রমাণও নেই। আবুল মনসুর আহমদ তার ‘আমার রাজনীতির ৫০ বছর’ বইয়ে লিখেছেন, “বক্তৃতা শেষ করিয়াই মুজিব সভামঞ্চ ত্যাগ করিলেন। তাজউদ্দিন সাহেব মুহূর্তমাত্র সময় নষ্ট না করিয়া মাইকের স্ট্যান্ড চাপিয়া ধরিলেন এবং বলিলেন : ‘এইবার মওলানা তর্কবাগীশ মোনাজাত করিবেন। সভার কাজ শেষ।’ মওলানা সাহেব তখনই মাইকের সামনে দুই হাত তুলিয়া মোনাজাত শুরু করিলেন। সমবেত বিশ-পঁচিশ লক্ষ লোকের চল্লিশ-পঞ্চাশ লাখ হাত উঠিয়া পড়িল। মোনাজাতের সময় এবং তকবিরের সময় কথা বলিতে নাই। তাই কেউ কথা বলিলেন না। নড়িলেন না। যখন মোনাজাত শেষ হইল, তখন শেখ মুজিব চলিয়া গিয়াছেন। পট করিয়া মাইকের লাইন কাটিয়া গিয়াছে। স্পষ্টতই বুঝা গেল, আর কেউ কিছু বলিতে না পারুক, এই জন্যেই এই ব্যবস্থা করা হইয়াছিল। এতে এটা নিঃসন্দেহে বুঝা গেল যে, তথাকথিত ছাত্রনেতা ও তরুণদের জবরদস্তি ও হুমকি ধমকেও সেদিন শেখ মুজিবের স্বাধীনতা ঘোষণার ইচ্ছা ছিল না।” সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা আবুল মনসুর আহমদ অবশ্য সেদিন স্বাধীনতা ঘোষণা না করাকে শেখ মুজিবের প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতা বলে বর্ণনা করেছেন। এর মাধ্যমে ৭ই মার্চের ভাষণের ব্যাপারে তৎকালীন ও বর্তমান আওয়ামী লীগের নেতাদের চিন্তার বৈসাদৃশ্য লক্ষ্যণীয়। উপরন্তু ১০ই মার্চ থেকে মুজিব-ইয়াহিয়া বৈঠকের তোড়জোড় শুরু হয় এবং ১৯, ২০, ২১, ২৩ ও ২৪শে মার্চ পাকিস্তানি প্রতিনিধি দলের সাথে তৎকালীন হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে উভয়পক্ষে দফায় দফায় বৈঠক হয়। এসব বৈঠকে স্বায়ত্তশাসনের লক্ষ্যে সামরিক শাসন প্রত্যাহার করে বেসামরিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরসহ চার দফা চুক্তি প্রস্তাব করা হয়। এমনকি আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রের নাম হিসেবে ‘ফেডারেশন অব পাকিস্তান’ প্রস্তাব করা হয়। বিপরীতে ইয়াহিয়ার প্রতিনিধি বিচারপতি কর্নেলিয়াস ‘ইউনিয়ন অব পাকিস্তান’ প্রস্তাব করেন। মূল কথা হচ্ছে, ৭ই মার্চের ভাষণকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার চূড়ান্ত ঘোষণা বলে জাহির করাটা নিতান্তই হাস্যকর। এই বয়ানে ব্যর্থ হয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা জিয়াউর রহমানকে কেবলই ঘোষণাপত্রের পাঠক বলে প্রকাশ করতে সচেষ্ট থাকে এবং তথাকথিত গ্রেফতারের পূর্বে শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে গিয়েছেলেন বলে মিথ্যা দাবি করে থাকে। কিন্তু ইতিহাসের অমোঘ সত্যকে অস্বীকার করার জো কোথায়? মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক অসংখ্য বই এবং দলীল-দস্তাবেজ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, শেখ মুজিব শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সমঝোতার মাধ্যমে ক্ষমতারোহণের অপেক্ষায় ছিলেন। আর্চার ব্লাড লিখিত ‘দ্য ক্রুয়েল বার্থ অব বাংলাদেশ’ এবং এস এ করিমের ‘শেখ মুজিব’ গ্রন্থ থেকে শেখ মুজিবের বাসায় ২৫শে মার্চ সন্ধ্যায় অবস্থানরত পারিবারিক কর্মচারী মমিনুর রহমান খোকার ভাষ্য থেকে সে সন্ধ্যার ঘটনাপ্রবাহের বর্ণনা পাওয়া যায়। এ বর্ণনার কোথাও শেখ মুজিবের স্বাধীনতা ঘোষণার উল্লেখ পাওয়া যায় না। মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদের মেয়ে শারমিন আহমদের লেখা ‘তাজউদ্দিন আহমেদ : নেতা ও পিতা’ বইয়ে উল্লেখ রয়েছে, “পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৫শে মার্চের ভয়াল রাতে আব্বু গেলেন মুজিব কাকুকে নিতে... মুজিব কাকু উত্তর দিয়েছিলেন, এটা আমার বিরুদ্ধে দলিল হয়ে থাকবে। এর জন্যে পাকিস্তানিরা আমাকে দেশদ্রোহের অভিযোগে বিচার করতে পারে।” এর মাধ্যমেই প্রতীয়মান হয়, শেখ মুজিব কখনোই বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি; বরং তিনি ইয়াহিয়ার ফোনের অপেক্ষায় ছিলেন। ‘মুক্তিযুদ্ধ কেন অনিবার্য ছিল’ বইয়ে ডক্টর কামাল হোসেন লিখেন, “এমনকি ২৫শে মার্চ রাত সাড়ে দশটা নাগাদ আমি যখন বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছিলাম, তখনও বঙ্গবন্ধু আমার কাছে জানতে চাইলেন, আমি ঐ টেলিফোন পেয়েছি কি না। আমি তাকে জানালাম যে, আমি তা পাইনি।”

এছাড়াও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একটি দাবি করা হয় যে, গ্রেফতার হবার আগে শেখ মুজিব জহুর আহমেদ চৌধুরীকে স্বাধীনতার ঘোষণা সম্বলিত একটি চিরকুট দিয়ে গিয়েছিলেন। অথচ ‘মূলধারা ৭১’ বইয়ে মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদের বিশেষ সহকারী মইদুল হাসানের লেখা থেকে এ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়। ভারত সরকার যখন মুজিবনগর সরকারের কাছে শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা করেছেন কি না মর্মে প্রমাণ চায়, তখন আওয়ামী লীগের নেতারা কোনো কিছু উপস্থাপন করতে পারেননি। এদের মধ্যে জহুর আহমেদ চৌধুরীও ছিলেন। তিনি নিজে তাজউদ্দিন আহমদকে বলেছেন, তাকে কিছু বলা হয়নি।        

ইতিহাসের ঘূর্ণাবর্তের এই সন্ধিক্ষণে শেখ মুজিব ও আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের যখন এই দোদুল্যমানতা, ঠিক তখনই তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের নিরস্ত্র মানুষের ওপর হামলে পড়ে পাক হানাদার বাহিনী। রাজনৈতিক স্বার্থের বলি, কিংকর্তব্যবিমূঢ় জাতির জন্য তখন আলোর দিশারি হয়ে আসেন তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান। ২৫শে মার্চ সর্বপ্রথম বিদ্রোহ ঘোষণা এবং ২৬শে মার্চ রাতে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদান করে তিনি সমগ্র জাতিকে একটি নতুন আলোর সন্ধানে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার মন্ত্র বাতলে দেন। তার সেই ঘোষণা যেন বাঙালি জাতির মননে বিদ্যুতচ্ছটা হয়ে দ্যুতি ছড়ালো। ঘোর অমানিশার মাঝে সমগ্র জাতি খুঁজে পেল আলোর অস্তিত্ব। কিন্তু পরশ্রীকাতর একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী এই সত্যকে মেনে নিতে নারাজ। অথচ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা অসংখ্য দেশি-বিদেশি লেখকের কলমে জিয়ার এই অবদান জায়গা করে নিয়েছে স্থায়ীরূপে। বাংলাদেশে ভারতের প্রথম ডেপুটি হাইকমিশনার জে এন দীক্ষিত তার ‘Liberation and Beyond: Indo-Bangladesh Relations’ বইয়ে লিখেছেন, “চট্টগ্রামের ইবিআর কমান্ডার মেজর জিয়াউর রহমান স্বল্পকালীন পরিসরে চট্টগ্রাম বেতারকেন্দ্র দখল করেন এবং সেই কেন্দ্র থেকে প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের ঘোষণা দেন। সেই ঘোষণায় তিনি বাংলার সকল সামরিক ও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্যদের পাক হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধের আহবান জানান।” ভারতের সমরনায়ক লেফট্যানেন্ট জে এফ আর জ্যাকবও ‘Surrender at DACCA: Birth of a Nation’ বইয়ে একই কথা বলেছেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া ভারতীয় সেনা কর্মকর্তা সুখওয়ান্ত সিং লিখেছেন, “ইতিমধ্যে ২৬শে মার্চ চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে একজন বাঙালি অফিসার মেজর জিয়ার কন্ঠস্বর ভেসে আসে।” এমনকি পাক হানাদার বাহিনীর জেনারেল রাও ফরমান আলি তার লিখিত ‘বাংলাদেশের জন্ম’ বইতে লিখেছেন, “প্রতিটি বাঙালি ইউনিটই বিদ্রোহ করেছিল। মেজর জিয়াউর রহমান তার কমান্ডিং অফিসার কর্নেল জানজুয়াকে হত্যা করেছিলেন এবং নিজেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। তারা চট্টগ্রাম শহর দখল করে নিয়েছিলেন।”

জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণার এই স্বীকৃতি দিয়েছেন এমনকি খোদ আওয়ামী লীগ সরকারের হয়ে দায়িত্ব পালন করা কয়েকজন মন্ত্রীও। হাসিনা সরকারের সাবেক অর্থমন্ত্রী ডক্টর আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, “The next evening Major Zia announced the formatica of provisional government under his solicited support of the world in the liberation of Bangladesh.” হাসিনা সরকারের সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকার বলেন, “আমি নিজে জানি, যুদ্ধের সময় জানি, যুদ্ধের পরবর্তী সময়েও জানি যে মেজর জিয়ার এই ঘোষণাটির ফলে সারা দেশের ভেতরে এবং সীমান্তে যত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন তাদের মধ্যে এবং সাধারণ মানুষের মনে সাংঘাতিক একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করলো যে, হ্যাঁ, এবার বাংলাদেশ একটা যুদ্ধে নামলো।”

আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জিয়াউর রহমানের এই স্বাধীনতা ঘোষণাকে বিতর্কিত করতে আরেকটা অপচেষ্টা করা হয় যে এটি ২৬শে মার্চ তারিখে দেয়া হয়নি। তারা বলে থাকে, জিয়াউর রহমান ২৭শে মার্চ তারিখে শেখ মুজিবের ঘোষণাটিকে পাঠ করেছিলেন মাত্র। কিন্তু এটি কেবলই একটি প্রোপাগান্ডা। প্রকৃতপক্ষে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা করেন ২৬শে মার্চ স্থানীয় সময় ৭টা ৪৫ মিনিটে, যা অস্ট্রেলিয়ায় রাত ১১টা ৪৫ মিনিট। রেডিও অস্ট্রেলিয়া ঘোষণাটিকে তাদের স্থানীয় সময় রাত ১২টার পরে ব্রডকাস্ট করে। ফলে যিনি যখন যেভাবে শুনেছেন, তারা তাদের লেখনীতে সেভাবেই উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে ২৭শে মার্চ তারিখে যে ঘোষণাটির কথা বলা হয়, সেটি হচ্ছে তৎকালীন চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্রে কর্মরত বেলাল আহমেদের অনুরোধে রাজনৈতিক বিতর্ক এড়ানোর জন্য শেখ মুজিবের পক্ষে জিয়া যে ঘোষণাটি দিয়েছিলেন সেটি। মুক্তিযুদ্ধের ৩ নম্বর সেক্টর কমান্ডার মেজর কে এম সফিউল্লাহ (বীর উত্তম) লিখেছেন, “...২৬শে মার্চ তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর মোকাবিলার জন্য সবাইকে আহবান জানান। এতে তিনি নিজেকে রাষ্ট্রপ্রধানরূপে ঘোষণা করেন। ২৭শে মার্চ মেজর জিয়া স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে আরেকটি ঘোষণায় বলেন, বাংলাদেশ মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে আমি মেজর জিয়া শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি।”

মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন দলিল-দস্তাবেজ ও এ সংক্রান্ত বিভিন্ন বই-পুস্তক থেকে এটা প্রমাণিত যে, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণায় নিজেকে ‘হেড অব দ্য স্টেট’ হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। তবে এর আগে আরেকটি প্রোপাগান্ডার জবাব দেয়া প্রয়োজন। কোনো কোনো অর্বাচীন বলে থাকেন, জিয়া যে ঘোষণাটি দিয়েছিলেন, সেটি তার নয়; তিনি কেবলই ঘোষণার পাঠক ছিলেন। তাহলে প্রশ্ন আসছে, ঘোষণাটি কে লিখেছেন? এর কোনো সদুত্তর তাদের জানা নেই। তারা যেমনটা বলে থাকে যে, এটি শেখ মুজিবেরই পাঠানো ঘোষণা যা তিনি বেতার যন্ত্রের মাধ্যমে চট্টগ্রামে পাঠিয়েছিলেন। প্রকৃতপক্ষে এটি ছিল অসম্ভব। কারণ ঐ সময়ে বেতার যন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ ছিল পাকিস্তানিদের হাতে। তাছাড়া শেখ মুজিব তার লেখা ঘোষণা অনতিদূরেই হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অবস্থানরত আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের কাছে না পাঠিয়ে চট্টগ্রামেই বা কেন পাঠাবেন!

মূলত জিয়া নিজেই তার এই ঘোষণা লিপিবদ্ধ করেছিলেন। এ ঘটনার অন্যতম সাক্ষী তৎকালীন মেজর সুবিদ আলী ভুঁইয়া। তিনি তার ‘মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস’ গ্রন্থে লিখেছেন, “ঘন্টা দেড়েক চেষ্টার পর তিনি তার সেই ঐতিহাসিক ভাষণটি তৈরি করে নিজেই সেটি বাংলা ও ইংরেজিতে পাঠ করেন। মেজর জিয়া ঐ ভাষণে নিজেকে ‘হেড অব দি স্টেট’ অর্থাৎ রাষ্ট্রপ্রধানরূপেই ঘোষণা করেছিলেন।”

যাই হোক, পূর্বেই বলা হয়েছে যে জিয়াউর রহমান তার স্বাধীনতা ঘোষণায় নিজেকে ‘হেড অব দ্য স্টেট’ রূপে ঘোষণা করেছিলেন। এ সংক্রান্ত প্রমাণও ইতিহাসের বই পুস্তকে অপ্রতুল নয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের ১ নম্বর সেক্টর কমান্ডার মেজর রফিকুল ইসলাম (বীর উত্তম) তার ‘A Tale of Millions’ বইয়ে উল্লেখ করেছেন, “প্রথমে তিনি (জিয়া) নিজেকে রাষ্ট্রপ্রধানরূপে ঘোষণা করেন। পরে তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে স্বাধীনতা ঘোষণা দিয়েছেন।” মইদুল হাসান তার ‘মূলধারা ৭১’ বইয়ে লিখেছেন, “মেজর জিয়া শেখ মুজিবের নির্দেশে যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার কথা বললেও নিজেকে রাষ্ট্রপ্রধানরূপে করা আগেকার ঘোষণা সংশোধন করেননি।” ভারত সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশ বিষয়ক ইতিহাস ‘ভারত রক্ষক’ শিরোনামবিশিষ্ট সাইটের ৯৩তম পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে, “৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মেজর জিয়া ২৬শে মার্চ তারিখে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং তিনি বাংলাদেশের অস্থায়ী প্রেসিডেন্টের দায়িত্বও গ্রহণ করেন।” এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্প্রতি ডিক্লাসিফাই করা বাংলাদেশ সংক্রান্ত দলিলপত্রে উল্লেখ রয়েছে, “On March 27, the clandestine radio announced the formation of a revolutionary army and a provisional government under the leadership of Major Ziaur Rahman.” ১৯৭১ সালের ২৯শে মার্চ আর্জেন্টিনা থেকে প্রকাশিত বিখ্যাত দৈনিক Buenos Aires Herald 49 Faciara 186611, Rebel Government set up under Major  শীর্ষক রিপোর্টে বলা হয়, মেজর জিয়া নিজেকে হেড অব দ্য স্টেট ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা দেন।

ইতিপূর্বে উল্লেখিত একাধিক মুক্তিযুদ্ধকালীন সেক্টর কমান্ডারদের লেখা থেকেও এই কথা প্রতীয়মান হয়। কর্নেল অলি আহমদ (বীর বিক্রম) অক্সফোর্ড ব্রুকস বিশ্ববিদ্যালয়ে তার পিএইচডি অভিসন্ধর্ভের অনুবাদ গ্রন্থে বলেছেন, “মেজর জিয়া ছিলেন আমাদের নেতা এবং আমাদের রাষ্ট্রপতি।” বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সৈয়দ আলি আহসানও এ কথার সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “২৬শে মার্চ জিয়াউর রহমান নিজ দায়িত্বে নিজেকে বাংলাদেশের কমান্ডার ইন চিফ এবং প্রভিশনাল রাষ্ট্রপ্রধান বলেছেন। এটা কেউ তাকে বলেনি। এটা ঠিক কি ঠিক করেননি, তা আমি বলছি না। তিনি একক দায়িত্বে বলেছেন, এটা জানি।”

মূলত দেশের অমন অরাজক পরিস্থিতির মধ্যে রাজনৈতিক নেতারা যখন জাতিকে নিরাপত্তাহীন রেখে পালিয়ে গেলেন, তখন কাউকে না কাউকে তো কিছু বলতে হতো। জিয়াউর রহমান সে দায়িত্বটিই নিয়েছিলেন। যদি দেশ স্বাধীন না হয়, তাহলে তার ভাগ্যে কী ঘটতে পারে সে সম্পর্কেও তিনি ওয়াকিবহাল ছিলেন। তারপরও তিনি ঝুঁকি নিয়েছেন। যে ঝুঁকিটা শেখ মুজিবসহ আওয়ামী লীগের নেতারা নিতে ব্যর্থ হয়েছেন। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের মাথায় কেবলই ক্ষমতা ভোগের বিষয়টি ঘুরছিল। ইতিহাস বলে জিয়া যেখানে জানমালের মায়া ত্যাগ করে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন, শেখ মুজিব তার ব্যতিক্রম। ইতিহাসের চরম সন্ধিক্ষণে তিনি চূড়ান্ত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করতে পারেননি। এমনকি তাজউদ্দিন আহমদের অনুরোধও তার শুভবুদ্ধির উদয় ঘটাতে পারেননি।

পার্থক্যটা এখানেই। দেশপ্রেম, জাতীয়তাবোধ, আদর্শের চরম প্রকাশ এখানেই। যে পরীক্ষায় জিয়া উত্তীর্ণ হয়েছেন ঠিকঠাকভাবেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য, বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মরহুম অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদের ভাষায়, “বাংলাদেশের রাজনীতির গতি-প্রকৃতির দিকে লক্ষ্য করুন। দেখবেন, যে যে ক্ষেত্রে শেখ মুজিবুর রহমান ব্যর্থ হয়েছেন, ঐসব ক্ষেত্রেই জিয়াউর রহমানের সাফল্য আকাশচুম্বী। এই ঐতিহাসিক সত্যই বাংলাদেশের রাজনীতিকে করে তুলেছে সংঘাতময়। বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরোনো রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। তাদের নেতা-নেত্রীদের নিকট এই সত্য দুঃসহ এক বোঝার মতো হয়ে রয়েছে। তারা না পারছে এটা ভুলতে; না পারছে ফেলতে। তাই তারা জিয়ার সকল সৃষ্টির বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছে।” কিন্তু সত্যের জয় তো অবশ্যম্ভাবী। মিথ্যা দিয়ে একটি চিরন্তন সত্যকে ক’দিনই বা চেপে রাখা সম্ভব! ইতিহাসে জিয়ার যে অবস্থান তা এক ‘অনিবার্য বাধ্যবাধকতা।’ মুক্তিযুদ্ধে জিয়ার ভূমিকাকে অস্বীকার করা বালসুলভ আচরণেরই নামান্তর। এতে করে একজন জিয়ার মহিমাকে চাপা দেয়া দুঃসাধ্য। মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজ গুণেই ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে থাকবেন।        

লেখক : অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান শিক্ষক, মার্কেটিং বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; প্রশিক্ষণ বিষয়ক সহ-সম্পাদক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি

ফারহান আরিফ- সাবেক শিক্ষার্থী, শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; সদস্য, আহবায়ক কমিটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল।

 

avertisements
যশোরে ১২৪টি স্বর্ণের বারসহ আটক- ১
যশোরে ১২৪টি স্বর্ণের বারসহ আটক- ১
৫৫ বছর বয়সে ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষা দেবেন বেলায়েত শেখ
৫৫ বছর বয়সে ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষা দেবেন বেলায়েত শেখ
ভাঙ্গায় ইয়াবাসহ ২ যুবক গ্রেফতার
ভাঙ্গায় ইয়াবাসহ ২ যুবক গ্রেফতার
শেখ হাসিনা থাকলে কোনো ষড়যন্ত্রই জাতিকে পেছাতে পারবে না : কাদের
শেখ হাসিনা থাকলে কোনো ষড়যন্ত্রই জাতিকে পেছাতে পারবে না : কাদের
গণকমিশনের ভিত্তি নেই, বিশৃঙ্খলা করলে ব্যবস্থা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
গণকমিশনের ভিত্তি নেই, বিশৃঙ্খলা করলে ব্যবস্থা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দেশে করোনায় টানা এক মাস মৃত্যুহীন
দেশে করোনায় টানা এক মাস মৃত্যুহীন
বিএনপিকে সংবিধান মেনে নির্বাচনে আসতে হবে : হানিফ
বিএনপিকে সংবিধান মেনে নির্বাচনে আসতে হবে : হানিফ
বিএনপি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে : নানক
বিএনপি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে : নানক
বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর স্বেচ্ছাচারিতার কারণে ডলারের দামে অস্থিরতা
বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর স্বেচ্ছাচারিতার কারণে ডলারের দামে অস্থিরতা
শিবির করিস বলে শিক্ষককে চড়-থাপ্পড় মারলেন এমপি
শিবির করিস বলে শিক্ষককে চড়-থাপ্পড় মারলেন এমপি
কুষ্টিয়ায় ছোট ভাইয়ের লাশ দেখে মারা গেলেন বড় ভাই
কুষ্টিয়ায় ছোট ভাইয়ের লাশ দেখে মারা গেলেন বড় ভাই
সমালোচনার জবাব মৃত্যুদণ্ড হয় না : আ স ম রব
সমালোচনার জবাব মৃত্যুদণ্ড হয় না : আ স ম রব
বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিলে লাগাতার হরতাল : ডাঃ ইরান
বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিলে লাগাতার হরতাল : ডাঃ ইরান
মাদক সেবনের সময় তানোরে ছাত্রলীগের সম্পাদকসহ গ্রেপ্তার ৩
মাদক সেবনের সময় তানোরে ছাত্রলীগের সম্পাদকসহ গ্রেপ্তার ৩
জামতৈল রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনে কাটা পড়ে দাদা নাতির মৃত্যু
জামতৈল রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনে কাটা পড়ে দাদা নাতির মৃত্যু
কর্ণেল আজিমের রোগমুক্তি কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
কর্ণেল আজিমের রোগমুক্তি কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
অরাজনৈতিক হয়েও রাজনৈতিক হয়রানির শিকার ডা. জুবাইদা রহমান
অরাজনৈতিক হয়েও রাজনৈতিক হয়রানির শিকার ডা. জুবাইদা রহমান
গণমাধ্যম যখন সঠিকভাবে কাজ না করে তখন বহুমাত্রিক ও গণতান্ত্রিক সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয় -তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী
গণমাধ্যম যখন সঠিকভাবে কাজ না করে তখন বহুমাত্রিক ও গণতান্ত্রিক সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয় -তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী
এ প্রতিহিংসার শেষ কোথায়!
এ প্রতিহিংসার শেষ কোথায়!
জার্মান বিএনপির সভাপতি আকুল মিয়ার মাতার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ
জার্মান বিএনপির সভাপতি আকুল মিয়ার মাতার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ
বিনিয়োগকারীদের ২৪ হাজার কোটি টাকা লাপাত্তা
বিনিয়োগকারীদের ২৪ হাজার কোটি টাকা লাপাত্তা
গুন্ডা-মাস্তান থেকে চেয়ারম্যান হয়েছি-শামিম (ভিডিওসহ)
গুন্ডা-মাস্তান থেকে চেয়ারম্যান হয়েছি-শামিম (ভিডিওসহ)
গুন্ডা-মাস্তান থেকে চেয়ারম্যান হয়েছি-শামিম (ভিডিওসহ)
গুন্ডা-মাস্তান থেকে চেয়ারম্যান হয়েছি-শামিম (ভিডিওসহ)
ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী নতুন নিয়োগ বিধিমালা নিয়ে অসন্তোষ
ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী নতুন নিয়োগ বিধিমালা নিয়ে অসন্তোষ
শিক্ষার টেকসই উন্নয়ন, প্রসার ও কর্মমুখীকরণে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়া ও বিএনপির ভূমিকা
শিক্ষার টেকসই উন্নয়ন, প্রসার ও কর্মমুখীকরণে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়া ও বিএনপির ভূমিকা
মোদি-বিরোধী প্রতিবাদে মৃত্যুর তদন্ত চেয়েছে ১১টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন
মোদি-বিরোধী প্রতিবাদে মৃত্যুর তদন্ত চেয়েছে ১১টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন
ধামরাইয়ে বাসা বাড়িতে দেহ ব্যাবসার অভিযোগ
ধামরাইয়ে বাসা বাড়িতে দেহ ব্যাবসার অভিযোগ
রাজনীতিকে আওয়ামীকরণ
রাজনীতিকে আওয়ামীকরণ
তারেক রহমান যাঁর প্রতীক্ষায় বাংলাদেশ
তারেক রহমান যাঁর প্রতীক্ষায় বাংলাদেশ
ধামরাই থানায় এক মাস ঘুরেও মামলা করতে পারেনি দলিল লেখক
ধামরাই থানায় এক মাস ঘুরেও মামলা করতে পারেনি দলিল লেখক
avertisements
avertisements