avertisements
Text

এম আবদুল্লাহ

সিপাহী-জনতার বিপ্লব আজও আমাদের রক্তে ঢেউ তুলে

প্রকাশ: ০৭:২৭ পিএম, ৮ নভেম্বর,মঙ্গলবার,২০২২ | আপডেট: ০৩:০৯ এএম, ১৬ জুলাই,মঙ্গলবার,২০২৪

Text

‘তখনো আকাশে অন্ধকার ছিল। গোলাগুলির শব্দে প্রকম্পিত শেষ রজনীর ঢাকা। শ্বাসরুদ্ধকর। মুহূর্তগুলি ছিল যুগের মতো। বিনিদ্র রাত্রিতে আতঙ্কিত নগরবাসী হয়তো ভাবিতেছিল একাত্তরের সেই পাষাণ ঢাকার দিনগুলির কথা। এমনি সময়ে রেডিও বাংলাদেশের ঢাকা কেন্দ্রের ঘোষকের কণ্ঠে ধ্বনিত হইল স্লোগান ‘সিপাহী বিপ্লব জিন্দাবাদ’। উৎকণ্ঠ নগরবাসীর শ্রবণেন্দ্রীয়। এই অসময়ে রেডিও কি বার্তা শুনাইবে? ঘোষকের কণ্ঠে ঘোষিত হইল : ‘সিপাহী বিপ্লব সফল হয়েছে। প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের হাত থেকে জেনারেল জিয়াকে মুক্ত করা হয়েছে। অল্পক্ষণের মধ্যেই তিনি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিবেন।’ এটি ১৯৭৫ সালের ৯ নভেম্বরে প্রকাশিত দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পৃষ্ঠায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের ইন্ট্রো বা সূচনা। সাতচল্লিশ বছর আগে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক সিপাহী-জনতার বিপ্লবের একদিন পর ‘ইত্তেফাক রিপোর্ট’ ক্রেডিট লাইন দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল- “সংশয় ও দুঃস্বপ্নের মেঘ অতিক্রম করিয়া-”।

প্রতিবেদনের পরের অংশটি আরও আবেগ ও উচ্ছ্বাসে উদ্ভাসিত। প্রতিবেদনটি এগিয়েছে এভাবে- “সকল সংশয়, দ্বিধা আর দুঃস্বপ্নের মেঘ অতিক্রম করিয়া গত শুক্রবার বাঙ্গালী জাতির জীবনে এক ঐতিহাসিক ও অভূতপূর্ব বিজয় সূচিত হইয়াছে। এই বিজয়ে স্বর্ণোজ্জ্বল দলিলে জনতার প্রাণের অর্ঘ্য দিয়া লেখা হইল বাংলার বীর সেনানীদের নাম। আর দলিলের শিরোনামে শোভা পাইল একটি নাম- মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান, বীরোত্তম, পিএসসি- এক প্রিয় ও বিচক্ষণ ব্যক্তিত্ব। সেনাবাহিনী, নৌ-বাহিনী, বিমানবাহিনী, বাংলাদেশ রাইফেলস, পুলিশ এবং আনসার বাহিনীর বীর সিপাহীদের এই জাগ্রত চেতনা, বৈপ্লবিক সত্তার এই প্রকাশ প্রমাণ করিল যে, বাঙ্গালী জাতির স্বাধীনতা খর্ব করার সাধ্য নাই কোনো চক্রের, কাহারো ক্ষমতা নাই দেশের সার্বভৌমত্বকে আঘাত করার, দুর্বল করার।”

সিপাহী-জনতার বিপ্লবোত্তর বাংলাদেশকে তুলে ধরা হয়েছে ইত্তেফাকের ওই প্রতিবেদনে। বলা হয়েছে “শুক্রবারের প্রভাত জাতির জন্য ছিনাইয়া আনে এক উজ্জ্বল ভবিষৎ, পরাভবহীন এক অপূর্ব আত্মপ্রত্যয়। সিপাহী-জনতার এই মিলিত আবেগ, উচ্ছ্বাস, জয়ধ্বনি, আনন্দের কল-কল্লোল, সহস্র কণ্ঠের এই উচ্চকিত নিনাদ সেদিন ঘোষণা করিল সৈনিক ও জনতার একাত্মতা।” বছর ঘুরে আবার সাতই নভেম্বর আমাদের সামনে উপস্থিত। পঁচাত্তরের পর থেকে তিন দশকের বেশি দিনটি আসলেই বাংলাদেশের মানুষ সেই গৌরব ও অহংকারের দিনটিকে স্মরণ করতো যথাযোগ্য মর্যাদায়। পালিত হতো নানা কর্মসূচিতে। গত দেড় দশক ধরে চলছে দিনটি ভুলিয়ে দেওয়ার নিরন্তর প্রচেষ্টা। সেই বিপ্লবোত্তর বাংলাদেশের মহানায়ককে ইতিহাস বিকৃতির মাধ্যমে খলনায়ক বানানোর মরিয়া অপচেষ্টা দেখছে দুর্ভাগা বাংলাদেশ। কিন্তু চাইলেই কি ভুলিয়ে দেওয়া যাবে ইতিহাসের সেই স্বর্ণোজ্জ্বল অধ্যায়কে?

পঁচাত্তরের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবকে বুঝতে হলে সেই সময়কার বাংলাদেশকে সামনে রাখতে হবে। তখনকার পত্র-পত্রিকায় অবিস্মরণীয় সেই বিপ্লবের চিত্র যেভাবে ফুটে উঠেছে তাতে দৃষ্টিপাত না করে প্রায় চার যুগ পর ইতিহাস বিকৃতির মহাযজ্ঞে বিপ্লব ও সংহতি দিবসকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। সেদিন দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী ভয়ানক ষড়যন্ত্র কারা, কিভাবে নস্যাৎ করেছিল তা বুঝতে হবে সাতচল্লিশ নভেম্বর পেছনে ফিরে। সিপাহী-জনতা সেদিন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ক্যান্টনমেন্টের বন্দিদশা থেকে স্বাধীনতা যুদ্ধের মহান ঘোষক মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে কেন মুক্ত করে আনলো তা নতুন প্রজন্মের কাছে বোধগম্য ও স্বচ্ছ ইতিহাসের মাধ্যমে তুলে ধরাই সময়ের দাবি।

পঁচাত্তরের পনের আগস্টের রক্তাক্ত পটপরিবর্তনের পর ৩, ৪, ৫ ও ৬ নভেম্বর বাংলাদেশ ছিল কার্যতঃ সরকারবিহীন। কথিত প্রতিবিপ্লবী কুচক্রিরা সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাসায় বন্দী করে রাখে। শ্বাসরুদ্ধকর নাটকীয় ঘটনাবলীর ধারাবাহিকতায় ৬ নভেম্বর দিবাগত রাতে সংঘটিত সিপাহী-জনতার মিলিত বিপ্লবে নস্যাৎ হয়ে যায় আধিপত্যবাদী শক্তির ক্রীড়নকদের সব ষড়যন্ত্র। চারদিনের দুঃস্বপ্নের প্রহর শেষ হয়। বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন জিয়া। রেডিওতে ভেসে আসে তাঁর কণ্ঠ- আমি জিয়া বলছি। এক সম্মোহনী ভাষণে তিনি দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ এবং কঠোর পরিশ্রম করার আহ্বান জানান। ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসায় সিক্ত জেনারেল জিয়াউর রহমানের সংক্ষিপ্ত অথচ উদ্দীপতাপূর্ণ ভাষণ জনমনে আশার সঞ্চার করে। সেদিন জাতীয় ঐক্য ও সংহতির যে দৃশ্য জীবন্ত হয়ে উঠেছিল তা ছিল এক কথায় অভূতপূর্ব ও অভাবনীয়।

৬ নভেম্বর দিবাগত রাত ও ভোরে জনতার বাঁধভাঙ্গা উল্লাস-উচ্ছ্বাসসহ ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরতে ৭ নভেম্বর  টেলিগ্রাম প্রকাশ করে সরকারি ট্রাস্টের পত্রিকা দৈনিক বাংলা। সে টেলিগ্রামের প্রধান শিরোনাম ছিল ‘আমাদের স্বাধীনতা রাখবোই রাখবো : জিয়ার নেতৃত্বে সিপাহী-জনতার বিপ্লব’। এ ছাড়াও টেলিগ্রামে ‘আমি জিয়া বলছি’ ও ‘উল্লাসে উদ্বেল নগরী’ শিরোনামে দুটি প্রতিবেদনসহ আরো করেকটি সাইড স্টোরি প্রকাশ করে। এর পর দিন থেকে দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক সংবাদসহ অন্যান্য পত্রিকা সিপাহী-জনতার বিপ্লব এবং সর্বস্তরের মানুষের অনুভূতি তুলে ধরে। উপরে বর্ণিত দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিবেদনের শেষ অংশে জিয়াউর রহমানের ভাষণের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হয়। তাতে বলা হয়- “বিজয়োল্লাসে সমগ্র দেশবাসী যখন আনন্দে উদ্বেলিত, জেনারেল জিয়াউর রহমান তখন শান্তিপূর্ণভাবে যথাস্থানে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের জন্য সশস্ত্রবাহিনী এবং সর্বস্তরের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাইলেন। দেশের সর্বত্র অফিস, আদালত, যানবাহন, বিমানবন্দর, মিল-কারখানা পূর্ণভাবে চালু রাখার নির্দেশ প্রদান করিলেন। তাঁহার এই আহ্বান ও নিদের্শে সৈনিক ও জনগণ ফিরিয়া পাইল ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা”।

ইত্তেফাকের রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়- “স্মরণীয় যে, গত আগস্ট মাসে সরকার পরিবর্তনের পর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে সেনাবাহিনীর প্রধান পদে নিয়োগ করা হয়। গত সোমবার তিনি এক চক্রান্তের শিকার হইয়া আটক হন। কিন্তু বাংলার দেশপ্রেমিক বীর সিপাহীরা গত শুক্রবার প্রভাতে সমস্ত চক্রান্তের অবসান ঘটাইয়া তাহাদের প্রিয় মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করেন এবং তাহাকে স্বীয় পদে বহাল করেন। সেনাবাহিনী আজ তাহার সুযোগ্য পরিচালনায় আস্থাশীল আর দেশবাসী সেনাবাহিনীর জাগ্রত চেতনা ও কর্তব্যবোধে নিশ্চিন্ত, আশাবাদী। (দৈনিক ইত্তেফাক : ৯ নভেম্বর, বরিবার ১৯৭৫)। সিপাহী-জনতার মিলিত বিপ্লবোত্তর বিজয়োল্লাসের বিররণ দিতে গিয়ে দৈনিক বাংলা পত্রিকা ‘কণ্ঠ’ আর ‘বুলেট’র মিলিত স্লোগানের কথা তুলে ধরে। অর্থাৎ গগন কাঁপানো স্লোগানের পাশাপাশি সৈনিকরা শূন্যাকাশে তাদের বন্দুকের গুলি ছুঁড়ে বিজয় উদযাপন করে। তাৎক্ষণিক প্রকাশিত দৈনিক বাংলার টেলিগ্রামের প্রতিবেদনে বলা হয়- “সিপাহী-জনতার মিলিত বিপ্লবে চারদিনের দুঃস্বপ্নের প্রহর শেষ হয়েছে। মেজর জেনালের জিয়াউর রহমান সাময়িকভাবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ও সেনাবাহিনী প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত প্রায় একটায় সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর জোয়ানরা বিপ্লবী অভ্যুত্থান ঘটায়। শুক্রবার সকাল সাড়ে চারটায় রেডিও বাংলাদেশ থেকে ঘোষিত হয়- ষড়যন্ত্রের নাগপাশ ছিন্ন করে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে উদ্ধার করেছেন বিপ্লবী সিপাহীরা। এর কিছুক্ষণ পর জেনারেল জিয়া জাতির উদ্দেশে তার ঐতিহাসিক ভাষণ দেন।”

প্রতিবেদনটিতে সে দিনের চিত্রটি ফুটিয়ে তোলা হয় এভাবে- “মিছিল মিছিল আর মিছিল- বিপ্লবের, বিজয়ের, উল্লাসের মিছিল। স্লোগান আর স্লোগান- কণ্ঠের আর বুলেটের মিলিত স্লোগান। করতালি আর করতালিতে  প্রাণের দুন্দুভী। আকাশে উৎক্ষিপ্ত লাখো হাত একের পর এক হচ্ছে প্রভাতের স্বর্ণ ঈগল। পথে পথে সিপাহী আর জনতা আলিঙ্গন করছে, হাত নেড়ে জানাচ্ছে অভিনন্দন- কাঁধে কাঁধ, হাতে হাত- এক কণ্ঠে এক আওয়াজ-‘সিপাহী জনতা ভাই ভাই; জওয়ান জওয়ান ভাই ভাই; বাংলাদেশ জিন্দাবাদ; মেজর  জেনারেল জিয়াউর রহমান জিন্দাবাদ; আমাদের আজাদী রাখবোই রাখবো; হাতের সঙ্গে হাত মেলাও- সিপাহী জনতা এক হও’।”  প্রতিবেদনে বর্ণনা উঠে আসে- “এত আনন্দ, এত উল্লাস- সিপাহী ও জনতার হৃদয়ের সঙ্গে হৃদয়ের কোরাস, স্লোগানের মাঝে কামানের এমন অর্কেস্ট্রা- এ এক অজানা ইতিহাস। সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার- এই চারদিনের দুঃস্বপ্নের প্রহর পেরিয়ে এসেছে শুক্রবারের সোবেহ সাদেক, সিপাহী ও জনতার মিলিত বিপ্লব এনেছে শুক্রবারের বিজয়ের সূর্য। ঢাকা উল্লাসে টাল মাতাল; বাংলাদেশ আনন্দে উদ্বেল। এই রিপোর্ট আমরা যখন লিখছি তখনো পথে পথে একের পর এক বিজয় মিছিল যাচ্ছে- ট্রাকে  চেপে, পায়ে হেঁটে। সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, বাংলাদেশ রাইফেলস, পুলিশ, আনসার ও দমকল বাহিনীর এক একটি দল যাচ্ছে- করছে রাজধানীর পথ পরিক্রম। তাদের সাথে একই ট্রাকে-লরীতে রয়েছে নানা স্তরের জনগণও। পথে পথে ঘুরছে ট্যাংক আর আর্মাড কার। পেছনে পেছনে জনতা। কোনো কোনো ট্যাংক ও আর্মাড কারেও জনতা উঠে বসেছে। স্লোগানে স্লোগানে আকাশে নিক্ষিপ্ত সিপাহীদের গুলিতে- আনন্দে-উচ্ছ্বাসে উদ্বেল নগরী।”

আজ প্রিয় বাংলাদেশের চিত্র কি সাতই নভেম্বর পঁচাত্তর-পূর্ব পরিস্থিতি থেকে ভিন্ন? আধিপত্যবাদের ক্রীড়নকরা কি অর্ধ-শতাব্দীর বাংলাদেশকে ফের দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করে ফেলেনি? আমাদের রাজনীতি, অর্থনীতি, সমরনীতি, কূটনীতি কি প্রতিবেশী আগ্রাসী শক্তির নাগপাশে নতুন করে আবদ্ধ হয়ে পড়েনি? এসব প্রশ্নের উত্তর যদি হ্যাঁ সূচক হয়, তাহলে সিপাহী-জনতার বিপ্লবের গুরুত্ব আজ কেন অপ্রাসঙ্গিক হবে? কোথায় সেই দেশপ্রেমিক সিপাহী-জনতা? কেন নতুন সুবেহ সাদেকের জন্যে জেগে উঠছে না?
 

 

বিপ্লবের সূত্রপাত সম্পর্কে দৈনিক বাংলা লেখে- “শুরু অনেক আগ থেকেই- বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত প্রায় দুটো-আড়াইটা থেকে। ঢাকার জনগণ যখন বুঝতে পারলেন- দুঃস্বপ্নের প্রহর শেষ হয়ে আসছে- শুরু হয়েছে সিপাহী বিপ্লব- তখন থেকেই তারা রাজপথে নামতে শুরু করেছেন। এক পর্যায়ে দেখা গেল- ময়মনসিংহ রোডে হাজার হাজার লোক- নানা স্তরের নানা বয়েসী। সিপাহীরা তাদেরকে পরিস্থিতি বুঝিয়ে বলেছেন। স্লোগান দিতে দিতে জনতা এগোচ্ছে ফার্মগেটের দিকে। রেডিও-ট্রানজিস্টারের পাশে জনতা উৎকর্ণ- মেজর জেনারেল জিয়া কখন ভাষণ দেবেন।” বিশেষ টেলিগ্রামের প্রতিবেদনে আরও লেখা হয়- “ভোর হল। পথে পথে তখন জনতার জোয়ার। প্রাণের ঢল। ঢাকা নগরে তখন ছড়িয়ে গেছে বিজয়ের বারতা। পথের পাশে মোড়ে মোড়ে জনতা। সিপাহীরা ট্রাকের পর ট্রাকে লরির পর লরিতে যাচ্ছে। তারা উচ্চকণ্ঠে বলে যাচ্ছেন জয়ের কথা। পথের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের বক্তব্য রাখছে;  স্লোগান দিচ্ছে আর তার সঙ্গে সঙ্গে স্লোগান জনগণের। বহু মহিলা এসে রাস্তার পাশে এখানে সেখানে জড়ো হয়েছে। স্কুলপড়া ছেলে-মেয়েরা এখানে সেখানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনতা অভিনন্দন জানাচ্ছে, তাদের দিকে ফুল ছুড়ে দিচ্ছে, ফুলের মালা গলায় পরিয়ে দিচ্ছে। সিপাহীরা অভিনন্দন জানাচ্ছে জনতাকে। পথে পথে গাড়ি থেকে নেমে আলিঙ্গন করছে। তাদেরকে দেয়া মালা পরিয়ে দিচ্ছে জনগণের গলায়। ব্যান্ড পার্টির বাদ্যের তালে তালে পথে পথে আনন্দনৃত্য করছে জনগণ। সকালে পথের পাশে এখানে সেখানে লোকজন আল্লাহর দরবারে মোনাজাত করছে। কোথাও কোথাও সড়ক-দ্বীপে পথচারীরা মিলিত হয়েছেন তাৎক্ষণিক মিলাদ মাহফিলে। (দৈনিক বাংলা- টেলিগ্রাম : ৭ নভেম্বর, শুক্রবার, ১৯৭৫)।

সেদিনকার অন্যান্য সংবাদপত্রেও সিপাহী-জনতার বিপ্লবের জয়গান দেখা গেছে। সম্পাদকীয় লেখা হয়েছে আবেগ মথিত ভাষায়। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে সেই সব সংবাদপত্রই আজ সাতই নভেম্বরকে কলঙ্কিত করতে সচেষ্ট। নতুন প্রজন্মকে ভিন্ন ইতিহাসের পাঠ দিচ্ছে। আজ প্রিয় বাংলাদেশের চিত্র কি সাতই নভেম্বর পঁচাত্তর-পূর্ব পরিস্থিতি থেকে ভিন্ন? আধিপত্যবাদের ক্রীড়নকরা কি অর্ধ-শতাব্দীর বাংলাদেশকে ফের দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করে ফেলেনি? আমাদের রাজনীতি, অর্থনীতি, সমরনীতি, কূটনীতি কি প্রতিবেশী আগ্রাসী শক্তির নাগপাশে নতুন করে আবদ্ধ হয়ে পড়েনি? এসব প্রশ্নের উত্তর যদি হ্যাঁ সূচক হয়, তাহলে সিপাহী-জনতার বিপ্লবের গুরুত্ব আজ কেন অপ্রাসঙ্গিক হবে? কোথায় সেই দেশপ্রেমিক সিপাহী-জনতা? কেন নতুন সুবেহ সাদেকের জন্যে জেগে উঠছে না? আশাবাদী মানুষ হিসেবে বলতে পারি- জেগে উঠবেই ইনশাআল্লাহ। কোন এক ভোরে নামবে জনতার প্রাণের ঢল।

লেখক : সভাপতি- বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)

avertisements
বইমেলায় চাঁদাবাজি : ঢাবি ছাত্রলীগের দুই নেতা বহিষ্কার
বইমেলায় চাঁদাবাজি : ঢাবি ছাত্রলীগের দুই নেতা বহিষ্কার
২৫ ফেব্রুয়ারি দেশের সব জেলায় বিএনপির পদযাত্রা
২৫ ফেব্রুয়ারি দেশের সব জেলায় বিএনপির পদযাত্রা
নতুন পাঠ্যক্রমের ওপর জঙ্গি হামলা হয়েছে : শিক্ষামন্ত্রী
নতুন পাঠ্যক্রমের ওপর জঙ্গি হামলা হয়েছে : শিক্ষামন্ত্রী
দেশে একনায়কতন্ত্র চলছে : জি এম কাদের
দেশে একনায়কতন্ত্র চলছে : জি এম কাদের
মাঠ পর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকালে অবশ্যই অফিসে থাকতে হবে
মাঠ পর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকালে অবশ্যই অফিসে থাকতে হবে
লুটপাটের জন্য আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা : মির্জা আব্বাস
লুটপাটের জন্য আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা : মির্জা আব্বাস
তাড়াশে গুলিতে আ'লীগ নেতা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নিহত
তাড়াশে গুলিতে আ'লীগ নেতা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নিহত
সংবিধান থেকে এক চুলও নড়বে না আওয়ামী লীগ : কাদের
সংবিধান থেকে এক চুলও নড়বে না আওয়ামী লীগ : কাদের
ওয়ার্ন-ম্যাকগ্রাকে ছাড়িয়ে অ্যান্ডারসন-ব্রড
ওয়ার্ন-ম্যাকগ্রাকে ছাড়িয়ে অ্যান্ডারসন-ব্রড
আ'লীগ এখন মলম পার্টিতে পরিনত হয়েছে : আলাল
আ'লীগ এখন মলম পার্টিতে পরিনত হয়েছে : আলাল
বিএনপি রাজপথে থেকেই জনগনের অধিকার আদায় করবে : গয়েশ্বর
বিএনপি রাজপথে থেকেই জনগনের অধিকার আদায় করবে : গয়েশ্বর
এই সরকারের পতন ছাড়া জনগণ ঘরে ফিরবেনা : টুকু
এই সরকারের পতন ছাড়া জনগণ ঘরে ফিরবেনা : টুকু
গাবতলীতে মরহুমা বিবি হায়াতুন নেছা তালুকদারের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত
গাবতলীতে মরহুমা বিবি হায়াতুন নেছা তালুকদারের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত
বিদেশী প্রভুদের কাছে বিএনপি নয়, সরকারই ধর্ণা দিচ্ছে : বুলু
বিদেশী প্রভুদের কাছে বিএনপি নয়, সরকারই ধর্ণা দিচ্ছে : বুলু
এই সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে : আমীর খসরু
এই সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে : আমীর খসরু
কর্ণেল আজিমের রোগমুক্তি কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
কর্ণেল আজিমের রোগমুক্তি কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
অরাজনৈতিক হয়েও রাজনৈতিক হয়রানির শিকার ডা. জুবাইদা রহমান
অরাজনৈতিক হয়েও রাজনৈতিক হয়রানির শিকার ডা. জুবাইদা রহমান
এ প্রতিহিংসার শেষ কোথায়!
এ প্রতিহিংসার শেষ কোথায়!
জার্মান বিএনপির সভাপতি আকুল মিয়ার মাতার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ
জার্মান বিএনপির সভাপতি আকুল মিয়ার মাতার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ
বিনিয়োগকারীদের ২৪ হাজার কোটি টাকা লাপাত্তা
বিনিয়োগকারীদের ২৪ হাজার কোটি টাকা লাপাত্তা
গুন্ডা-মাস্তান থেকে চেয়ারম্যান হয়েছি-শামিম (ভিডিওসহ)
গুন্ডা-মাস্তান থেকে চেয়ারম্যান হয়েছি-শামিম (ভিডিওসহ)
গুন্ডা-মাস্তান থেকে চেয়ারম্যান হয়েছি-শামিম (ভিডিওসহ)
গুন্ডা-মাস্তান থেকে চেয়ারম্যান হয়েছি-শামিম (ভিডিওসহ)
কণ্ঠে আহাজারি শুনি নাই, চোখে আগুন দেখেছি : মির্জা ফখরুল
কণ্ঠে আহাজারি শুনি নাই, চোখে আগুন দেখেছি : মির্জা ফখরুল
ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী নতুন নিয়োগ বিধিমালা নিয়ে অসন্তোষ
ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী নতুন নিয়োগ বিধিমালা নিয়ে অসন্তোষ
শিক্ষার টেকসই উন্নয়ন, প্রসার ও কর্মমুখীকরণে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়া ও বিএনপির ভূমিকা
শিক্ষার টেকসই উন্নয়ন, প্রসার ও কর্মমুখীকরণে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়া ও বিএনপির ভূমিকা
ভোলা থেকে রাতের আঁধারে পালিয়ে এসেছিল এসআই কনক
ভোলা থেকে রাতের আঁধারে পালিয়ে এসেছিল এসআই কনক
রাজনীতিকে আওয়ামীকরণ
রাজনীতিকে আওয়ামীকরণ
ধামরাইয়ে যুবলীগ নেতা সহ ৬ ব্যাক্তির নামে আদালতে চাঁদাবাজী মামলা দায়ের
ধামরাইয়ে যুবলীগ নেতা সহ ৬ ব্যাক্তির নামে আদালতে চাঁদাবাজী মামলা দায়ের
ধামরাইয়ে যুবলীগ নেতা সহ ৬ ব্যাক্তির নামে আদালতে চাঁদাবাজী মামলা দায়ের
ধামরাইয়ে যুবলীগ নেতা সহ ৬ ব্যাক্তির নামে আদালতে চাঁদাবাজী মামলা দায়ের
ধামরাইয়ে বাসা বাড়িতে দেহ ব্যাবসার অভিযোগ
ধামরাইয়ে বাসা বাড়িতে দেহ ব্যাবসার অভিযোগ
avertisements
avertisements