avertisements
Text

অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান/ অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান

জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান : জাতীয় গৌরবের সূর্যসারণি

প্রকাশ: ০৭:৪৮ পিএম, ১৫ ডিসেম্বর,বৃহস্পতিবার,২০২২ | আপডেট: ১০:৪২ পিএম, ২৩ মে,বৃহস্পতিবার,২০২৪

Text

পৃথিবীর জন্মলগ্ন থেকে মহান সৃষ্টিকর্তা যুগে যুগে সমাজ, রাষ্ট্র তথা মানব জাতির কল্যাণ এবং মুক্তির জন্য যেসব মনিষী, দার্শনিক এবং রাষ্ট্রচিন্তাবিদদের পাঠিয়েছেন, জিয়াউর রহমান তাঁদের মধ্যে অন্যতম। সেসব মহাপুরুষ বিভিন্ন ভূ-খন্ডে তাঁদের অবদানের জন্য ইতিহাসে আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন এবং থাকবেন। আজ থেকে প্রায় সাড়ে তিন হাজার বছর পূর্বে গ্রীসে সক্রেটিস মানব সমাজের কল্যাণ এবং মুক্তির জন্য (Virtue of Knowledge) ‘জ্ঞানই পূণ্য’ এই মর্মবাণী প্রচার করেন। যদিও তাঁকে পরবর্তীতে হত্যা করা হয়। সক্রেটিসের শিষ্য প্লেটো বিষয়টি খুব কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করেন। পরবর্তীতে প্লেটো এ ঘটনা থেকে শিক্ষা এবং অভিজ্ঞতা লাভ করে তিনি তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘দি রিপাবলিক’ এ ‘ন্যায় বিচার’ অনুসন্ধান করতে চেষ্টা করেন। প্লেটোর ভাষায়- ‘পৃথিবীতে সৃষ্টিকর্তা সব মানুষকে সব কাজ করার জন্য সৃষ্টি করেননি’। ‘ন্যায় বিচার (Justice)’ অনুসন্ধান করতে গিয়ে প্লেটো ‘আদর্শ রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হন। প্লেটো বিশ্বাস করেন যোগ্যতা অনুযায়ী যার যা প্রাপ্য তা প্রদান করাই হল ‘ন্যায় ধর্ম’। প্লেটোর চিন্তা থেকেই ‘রাষ্ট্র’ শব্দটির প্রথম উদ্ভব হয়।

প্লেটোর শিষ্য এরিষ্টটল তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘দি পলিটিক্স’ এ পরবর্তীতে রাষ্ট্রকে বাস্তব সম্মতভাবে উপস্থাপন করেন। তাঁর ভাষায় “মানুষের জীবন উন্নত থেকে উন্নতর করার জন্যই রাষ্ট্র প্রয়োজন”। এভাবে সক্রেটিস, প্লেটো এবং এরিষ্টটল একে অপরের সান্নিধ্য লাভের মধ্যে দিয়ে নিজেদেরকে অনুপ্রাণিত ও সমৃদ্ধ করেছেন, যা পরবর্তীতে মানব জাতির মুক্তি ও কল্যাণে অবদানের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে। পৃথিবীতে আজও তাঁরা অবিষ্মরণীয় হয়ে রয়েছেন। ক্ষণজন্মা মহাপুরুষদের নিঃস্বার্থ অবদানের কারণে পৃথিবী আজ এ পর্যায়ে এসেছে। তাঁরা যদি শুরু থেকে আজ পর্যন্ত তাঁদের অকৃত্রিম অবদান না রাখতেন তাহলে আমরা এ পৃথিবীতে বেনিফিসিয়ারী হতে পারতাম না।

বাংলাদেশে জিয়া’র আর্বিভাব তেমনি একটি ঘটনা। এ ভূখন্ডের জন্য জিয়া ছিলেন সৃষ্টিকর্তার অনন্য উপহার। বাংলাদেশের মানুষ প্রথম জিয়া’কে জানতে পায় ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে ইথারে ভেসে আসা চার শব্দের সেই বাক্য- ‘আমি মেজর জিয়া বলছি’ যা পুরো জাতিকে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহনে উদ্দীপ্ত করেছিল। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে জিয়াই সর্বপ্রথম ২৫ মার্চ ১৯৭১ সালে রাতে বিদ্রোহ করেন এবং চট্রগ্রামে তাঁর অধিনস্থ সৈন্যদের নিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু করেন এবং পরবর্তীতে ‘জেড ফোর্স’ এ নেতৃত্ব দেন। উপনিবেশ বিরোধী সংগ্রাম শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে জিয়া ছিলেন সর্বদা সচেষ্ট, যা পরবর্তীতে দেশ মাতৃকার বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা এবং সশস্ত্র সংগ্রামে নেতৃত্বের মধ্যে দিয়ে প্রতিফলিত হয়।

প্রফেসর রেহমান সোবহান, Untranquil Recollections: The Years of Fulfilment–এ লিখেছেন “I spent the night of 27 March in my new refuge, that night we turned in on the radio and heard a faint broadcast by Major Zia, proclaiming the Independence of Bangladesh”। 

‘জিয়া’ নিহত হওয়ার কয়েক বছরের মধ্যেই জিয়া বিরোধীরা তাঁর মর্যাদাকে ক্ষুন্ন করার জন্য এক অশ্লীল লড়াইয়ে লিপ্ত হয়। যে মানুষটি বিশ্বসভায় বাংলাদশের মর্যাদাকে সমুন্নত করেছিলেন, জাতিগঠনে উদ্যোগী হয়েছিলেন, সে মানুষটির মর্যাদাকে ধূলায় মিশিয়ে দেওয়ার জন্য তাঁর প্রতিপক্ষরা এমন কোনো কাজ নেই যা তারা করেনি। তাঁকে কলুষিত করার জন্য এমন কোনো মিথ্যা ছিল না, যার আশ্রয় তারা নেয়নি। এই মিথ্যার চর্চা এখনো অব্যাহত আছে। তারা জিয়া’র আকাশ ছোঁয়া জনপ্রিয়তাকে কখনও মেনে নিতে পারেননি, মেনে নিতে পারেন না। ঘরে বাহিরে ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া সত্বেও জিয়া সারা বিশ্বে ব্যাপক পরিচিতি ও প্রশংসা অর্জন করেন। নিউ ইয়র্ক টাইমস জিয়া’কে ‘Hard working and apparently incorruptible in personal life’ বলে অবিহিত করে। লন্ডন টাইমস লিখে- ‘By and large president Zia kept the country away from hopes and pointes quarrels’। 

প্রখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী তালুকদার মনিরুজ্জানের ভাষায় ‘Zia was on the few rulers from the military profession who understood the need for politics and politicians, the tend to prescribe simple unitary solutions to complex political problems. Zia clearly understood the destination in the functional roles of politics and arms. As he used to say frequently, politics should be met by politics, fire power by fire power’।

স্বাধীনতাযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য প্রথম বীরবিক্রম খেতাব প্রাপ্ত কর্ণেল অলি আহমেদের (মুক্তি যুদ্ধকালীন ক্যাপ্টেন)  ভাষায় “জিয়াউর রহমান আমাকে পরপর দু’বার তাঁর বাসায় ডেকে বলেন আমাদের কিছু একটা করা দরকার। তখন ৭ মার্চের বক্তব্য পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করি। যদিও  আ স ম আব্দুর রব কর্তৃক ২ মার্চ স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন এবং শাহজাহান সিরাজ কর্তৃক স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠের মধ্যে দিয়ে আমরা অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম। ৭ মার্চের ভাষণে সশস্ত্র যুদ্ধের কোন সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা না থাকায় জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট প্রথম বিদ্রোহ করে। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এর পরপরই গোটাদেশ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে”।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতা জিয়াকে প্রতিনিয়ত বিভিন্নভাবে কটুক্তি করায়, অতিসম্প্রতি জয়নাল হাজারী তাঁর নিজস্ব চ্যানেলে লাইভ-এ  এসে বলেন “জিয়াকে রাজাকার, একথা আমি মানতে রাজি নই। আমি নিজ কানে শুনেছি, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন, আমার এ কথা বলার জন্য যদি মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বন্ধ করে দেয়া হয় কিংবা আমার মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল করা হয় তারপরও জিয়া সর্ম্পকে এরুপ কটুক্তি আমি মানতে নারাজ”।

‘আনুগত্য ও নির্দেশ পালনের দীক্ষায়’ দীক্ষিত একজন সেনা কর্মকর্তার পক্ষে বিদ্রোহ করে অনিশ্চয়তার পথে পা বাড়ানো ছিল নিঃসন্দেহে জিয়া’র জন্য এক কঠিন সিদ্ধান্ত। এ বিদ্রোহের পেছনে ছিল তাঁর রাজনৈতিক চেতনা, ছিল মানবিক প্রবৃত্তি এবং নিজ ভূ-খন্ডের প্রতি গভীর দেশপ্রেম ও ভালোবাসা।

‘জিয়া’ হতাশায় নিমজ্জিত জাতিকে আলোর সন্ধান দিয়েছিলেন। তিনি বহুধাবিভক্ত জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে, দেশকে অগ্রগতির দিকে এগিয়ে নিয়ে আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। “তলাবিহীন ঝুড়ি” অপবাদ থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করে, আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে একটি আত্মনির্ভরশীল, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই (Sustainable) বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৯৭৭ সালের ৩০ এপ্রিল প্রদত্ত একটি রাজনৈতিক, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচী ১৯ দফা প্রনয়ণ করেন। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণায় জনগণের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ গণতন্ত্র, সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায় বিচার তথা রাজনৈতিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তির যে আকাঙ্খা ও চেতনা তার ভিত্তিতে আগামীর বাংলাদেশের যাত্রাপথ রচনায় জিয়া’র ১৯ দফা কর্মসূচি ছিল একটি মাইলফলক। জিয়ার নেতৃত্বে খুব অল্প সময়ে সরকার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি কঠিন সেতু বন্ধন সৃষ্টি করেছিল যা তাঁকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে যায়। 

জিয়া’র ব্যক্তিগত সততা, দেশপ্রেম, কঠোর পরিশ্রম, শৃংঙ্খলাবোধ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা, প্রবল ইচ্ছাশক্তি, সাধারণ জীবন যাপন, আত্মসংযম, আল্লাহর প্রতি গভীর আস্থা ও বিশ্বাস আধুনিক বাংলাদেশ বির্নিমানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। একটি আত্মনির্ভরশীল ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ এবং জনগণের কল্যাণই ছিল জিয়া’র প্রথম ও প্রধান সাধনা। 

‘জিয়া’ বাংলাদেশ রাষ্ট্র, সমাজ এবং ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব। জিয়া বিশ্বাস করতেন জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা ছাড়া বাংলাদেশকে অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়। তাই তিনি তাঁর মেধা, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ও প্রজ্ঞাদিয়ে ভাষা, ধর্ম, বর্ণ ও গোত্র নির্বিশেষে সকল মানুষকে নিয়ে জাতীয় ঐক্য ও জাতীয় সংহতি প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিলেন। 

দীর্ঘ প্রায় একান্ন বছরের বাস্তবতায় বাংলাদেশ এখনও আত্মনির্ভরশীল ও মর্যাদাপূর্ণ জাতি হিসেবে বিশ্ব পরিমন্ডলে স্থান করে নিতে সক্ষম হয়নি। স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ আকাঙ্খাগুলো এখনও সুদূর পরাহত। গণতন্ত্র, মানুষের রাজনৈতিক অধিকার আজ এক কঠিন প্রশ্নের সম্মুখীন। সাংবিধানিক, গণতান্ত্রিক এবং রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহ কার্যত অকার্যকরে পরিণত হয়েছে। প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি ও নির্যাতন জনজীবনকে করেছে বিপর্যস্ত। ফলশ্রুতিতে আইনের শাসনের জায়গায় পেশী শক্তির অবারিত আস্ফালন এবং সমাজের সর্বস্তরে আতংকের পরিবেশ বিরাজ করছে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে সামরিক অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান শহীদ হন।

বেগম খালেদা জিয়া শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী। মুক্তিযুদ্ধের প্রারম্ভে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অত্যাচারের কারণে বেগম জিয়া কিছুদিন আত্মগোপন করে থাকার পর ১৬ মে নৌ পথে ঢাকায়  আসেন এবং বড় বোন খুরশিদ জাহানের বাসায় ১৭ জুন পর্যন্ত অবস্থান করেন। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা এবং সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালনের কারণে ১৯৭১ সালে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল জামশেদের অধীনে বন্দী ছিলেন। ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের বিজয় অর্জিত হলে খালেদা জিয়া মুক্ত হন।

আশির দশকের শুরতে জাতীয় আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক ষড়য়ন্ত্রের মধ্যে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকান্ডের পর গৃহবধু থেকে খালেদা জিয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বিভিন্ন স্তরের নেতা কর্মীদের অনুরোধে ৩ জানুয়ারী ১৯৮২ বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হিসেবে যোগ দেন। ১৯৮২ সালে ২৪ মার্চ সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এরশাদ বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে ক্ষমতাচ্যুত করলে খালেদা জিয়া এর তীব্র বিরোধিতা করেন। 

১৯৮৩ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সাত দলীয় ঐক্যজোট গঠিত হয়। এসময় এরশাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়। ১৯৮৭ সাল থেকে খালেদা জিয়া “এরশাদ হটাও’’ শীর্ষক এক দফার আন্দোলনের সূত্রপাত করেন। আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হলে এরশাদ সংসদ ভেঙ্গে দিতে বাধ্য হন। অবশেষে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই দীর্ঘ ৯ বছর অবিরাম, নিরলস এবং আপোসহীন গণতান্ত্রিক সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে ৬ ডিসেম্বর ১৯৯০ সালে সামরিক শাসক এরশাদ পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

বেগম খালেদা জিয়া পূর্বাপর তৃতীয় বিশ্বে অন্যান্য রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মত শত ঘাত-প্রতিঘাত ও চড়াই উতরাই পেরিয়ে গণতান্ত্রিক সংগ্রামে নিজেকে আপোসহীন নেত্রীতে পরিণত করেন। রাজপথে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম এবং শত প্রতিকূলতার পরও জাতীয়তাবাদী চেতনার রাজনীতির ‘আইকন’ হয়ে ওঠেন এবং সেই সাথে বাংলাদেশের সর্ব বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির ‘কান্ডারীতে’ পরিণত হন।

খালেদা জিয়া রাজনীতিতে এসেছিলেন দেশবাসীকে স্বৈরাচার এরশাদের নাগপাশ থেকে মুক্ত করার গুরু দায়িত্ব নিয়ে। তাঁর এই সাফল্যের পেছনে শহীদ জিয়ার স্ত্রী হওয়াটা যোগসূত্র হিসেবে কাজ করলেও তিনি যা অর্জন করেছেন তা তাঁর ব্যক্তিত্ব ও যোগ্যতার কারণেই সম্ভব হয়েছে। বেগম জিয়ার রাজনৈতিক দর্শন হল এদেশের মাটি, মানুষ, গণতন্ত্র, উন্নয়ন- উৎপাদনের রাজনীতি এবং সর্বোপরি দেশের কষ্টার্জিত স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা। বেগম জিয়া মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন গণতন্ত্র ছাড়া কোন দেশ ও জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি স্টেট সিনেট ২০১১ সালে ২৪ মে বেগম খালেদা জিয়াকে ‘গণতন্ত্রের যোদ্ধা’ উপাধিতে সম্মানিত করেন” (মন্ডল)। খালেদা জিয়া সময়ের আবর্তনে একটি নাম - তৃতীয় বিশ্বের রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক সংগ্রামের উজ্জ্বল মুখ। 

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের দৃষ্টিতে বেগম জিয়া ঐক্যের প্রতীক। অন্যায়, অনিয়ম, অবিচারের বিরুদ্ধে এক বলিষ্ঠ প্রতিবাদী কষ্ঠস্বর। স্বৈরাচার ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে আপোসহীন নেতৃত্বের প্রতীক। তাঁর এই অর্জন হঠাৎ করেই কিংবা এমনি এমনি হয়নি। এজন্য তাঁকে সংগ্রাম করতে হয়েছে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তিনি আজও জীবন বাজি রেখে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে আজ পযর্ন্ত বেগম জিয়া ত্যাগের মহিমায় তাঁর জীবন মহিমান্বীত। তাঁর ভাষায় “বাংলাদেশ ভাল থাকলে, আমি ভাল থাকি”। “এ দেশের বাহিরে আমার কোন ঠিকানা নেই, এ দেশই আমার ঠিকানা”। বাংলাদেশ আজ এক চরম ক্লান্তিকাল অতিবাহিত করছে। এ দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ খালেদা জিয়ার মত নেত্রীকে খুঁজে ফিরে। 

জিয়া ও খালেদা তনয় তারেক রহমান পারিবারিক ঐতিহ্যের পথ অনুসরণ করে সূদুর প্রবাস থেকে তাঁর যোগ্য নেতৃত্বে জনগণকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে দিনের পর দিন পরিশ্রম করে চলেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে অনুষ্ঠিত গণ-সমাবেশে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে জনগণের সরব উপস্থিতি চোখে পড়ার মত।

তারেক রহমান শুধু একটি নাম নয়, একটি অস্তিত্ব, একটি প্রতিষ্ঠান। পারিবারিক ঐতিহ্য, পিতার আদর্শ ও মাতার বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের প্রভাব তাঁকে করেছে সমৃদ্ধ। এই সমৃদ্ধতা তারেক রহমানের জীবনে এক অনন্য সংযোজন। তারেক রহমান ছাড়া বাংলাদেশের ভবিষ্যত জাতীয়তাবাদী রাজনীতি অকল্পনীয়। আকস্মিক ভাবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তারেক রহমানের আগমন ঘটেনি। বরং দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পরিক্রমায় দলের প্রয়োজনে, দেশের প্রয়োজনে, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী আদর্শের প্রয়োজনে নিজ গুণ ও কর্ম প্রচেষ্টায় তৃণমূল থেকে ধীরে ধীরে রাজনীতিতে তাঁর উত্থান হয়েছে। সময় এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রয়োজনেই তারেক রহমানের রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গৌরবময় পারিবারিক ঐতিহ্য তারেক রহমানকে জুগিয়েছে অনুপ্রেরণা, দিয়েছে আলোর পথ কিন্তু রাজনীতিতে সংযোজন করেছেন তিনি নিজস্ব স্বকীয়তা। তারেক রহমান রাজনীতিকে শহীদ জিয়ার মতই রাজধানী কেন্দ্রীক প্রাসাদ রাজনীতির শৃংখল থেকে মুক্ত করে ছড়িয়ে দিয়েছেন গ্রাম বাংলার পথে প্রান্তরে। বাংলাদেশের প্রান্তিক মানুষকে সম্পৃক্ত করেছেন জাতীয় ক্রিয়া-কলাপ এবং আশা আকঙ্খা বাস্তবায়নের স্বপ্ন ও সংগ্রামের সাথে, যা তাঁকে রাজনীতিতে অনন্য ভূমিকায় আসীন করেছে। বাংলাদেশের গ্রাম - গ্রামান্তরে সর্বস্তরের মানুষের কাছে তারেক রহমান এক ‘আইকন’। আধিপত্যবাদ ও এদেশীয় ষড়যন্ত্রকারীদের অস্তিত্বের ভিত্তিমূলে নাড়াঁ দেয় তারেক রহমানের তৃণমূল রাজনীতির আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা। দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীরা সমস্ত শক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে তারেক রহমানের ওপর। কারণ বেগম খালেদা জিয়ার পর তারেক রহমানই একমাত্র রাজনৈতিক নেতা, যে ভবিষ্যতে দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে বাংলাদেশকে রক্ষা করার ক্ষমতা রাখেন। 

তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপিকে সুসংগঠিত ও সম্প্রসারিত করার ক্ষেত্রে তারেক রহমানের রাজনৈতিক নেতৃত্বের উত্থানকে শেখ হাসিনা ইতিবাচক রাজনৈতিক কর্মসূচি দ্বারা মোকাবিলা না করে আওয়ামী লীগের ঐতিহ্যগত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ফ্যাসিবাদী, স্বৈরাচারী কায়দায় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ‘গোয়েবলসীয়’ মিথ্যাচারে ভরপুর মিডিয়া প্রপাগাণ্ডায় নিয়োজিত হয়। এই মিডিয়া অপপ্রচারের একমাত্র লক্ষ্য ছিল, চমক লাগানো মিথ্যাচারের কল্পকাহিনী তারেক রহমানের বিরুদ্ধে প্রচার করে তাঁর চরিত্র হনন এবং জনপ্রিয় ভাবমূর্তিতে কালিমা লেপন করা।

তারই ধারাবাহিকতায় মহান স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াকে ইতিহাসের খলনায়ক, বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা এবং তারেক রহমানকে নিয়ে কুৎসা রটনা করে একশ্রেণীর গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে, দেশব্যাপী জিয়া পরিবার এবং জাতীয়তাবাদী আদর্শের রাজনীতিকে সর্বসাধারণের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার মধ্যে দিয়ে পরিকল্পিতভাবে ২০০৭ ১/১১’র  প্রেক্ষাপট তৈরী করা হয়। অনিরাপদ হয়ে পড়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব। টার্গেট করা হয় জাতীয়তাবাদী শক্তির রক্ষাকবচ জিয়া, খালেদা ও তারেক রহমানকে। শুরু হয় জিয়া, খালেদা এবং তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।
মঈন উ আহমেদ ও ফখরুদ্দীন আহমদের নিষ্ঠুর নির্মম নির্যাতনের ধারাবাহিকতা রিলে রেসিং এর মত তৎপরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য শেখ হাসিনার উপর দায়িত্ব অর্পিত হয়। শেখ হাসিনা ১/১১’র  কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় জিয়া, খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকম কূটকৌশল অবলম্বন করে, জিয়া পরিবারের অস্তিত্বকে নিঃশেষ করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। একের পর এক মিথ্যা মামলায় অসুস্থ বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে আটক রেখে তাঁর মানসিক মনোবল দূর্বল করে ফেলার চেষ্টা করা হয়। এমনকি উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রেও বিধি নিষেধ জারি করা হয়। তাছাড়াও বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী রাজনৈতিক নেতা, কর্মী, লেখক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিকদের গুম, হত্যা, অপহরণের মাধ্যমে এক ভয়াবহ আতংকের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এমনকি বিদেশে চিকিৎসাধীন তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দিয়ে দেশে ফিরে আসার পথ বন্ধ করা হয়। উদ্দেশ্য বিএনপি এবং জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ধারাকে স্তব্ধ করে দেয়া।

তীব্র মানসিক চাপ থাকা সত্ত্বেও স্বচ্ছভাবে চিন্তা করে তারেক রহমান তাঁর সুদূর প্রসারী চিন্তা ভাবনাকে সুবিন্যস্ত করে বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের জন্য পরিবেশন করে চলেছেন। তাছাড়াও নানা সীমাবদ্ধতার ভিতর দিয়ে তারেক রহমান বিএনপির রাজনীতিকে দক্ষতার সাথে পরিচালনা করছেন। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন, উজ্জীবিত করছেন প্রতিনিয়ত নানা কর্মসূচীর মাধ্যমে। তারেক রহমান শতবাধা বিপক্তি অতিক্রম করে মানুষের ভোটাধিকার, গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার এবং জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। 

আমাদের দেশের অনেক স্বঘোষিত বুদ্ধিজীবী, তথাকথিত রাজনীতিবিদসহ অনেক আধিপত্যবাদ ও সাম্রাজ্যবাদীদের আদর্শে বলিয়ান হয়ে এখনও তারেক রহমানকে নিয়ে নেতিবাচক বক্তব্যের ধারা অব্যাহত রেখে চলেছেন তাদের এ্যাজেন্ডাকে সুকৌশলে জীবিত রাখার জন্য। বিএনপি’র নেতা, কর্মী সমর্থক ও অনুসারীদের উচিত তারেক রহমানকে নিয়ে তথাকথিত বুদ্ধিজীবী ও আওয়ামী লীগের ‘গোয়েবলসীয়’ মিথ্যা প্রচারণাকে বেশি বেশি করে জনসম্মুখে তুলে ধরা। 

জিয়া, খালেদা এবং তারেক ঘটনার পরাম্পরায় একে অপরের সান্নিধ্য লাভের মধ্যে দিয়ে নিজেদেরকে সমৃদ্ধ করেছেন। তাঁদের সুযোগ্য পুত্র তারেক রহমান হেমিলনের বাঁশিওয়ালার মত পারিবারিক ঐতিহ্যকে ধারণ করে এগিয়ে চলেছেন জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার  দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে।

তারেক রহমান ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’ অর্থাৎ ঘুরে দাড়াও বাংলাদেশ। ‘বাংলাদেশ যাবে কোন পথে, ফয়সালা হবে রাজপথে’। ‘আপনার ভোট আপনি দিবেন, যাকে খুশি তাকে দিবেন’ এইসব শ্লোগান দিয়ে সুদূর দূর দেশ থেকেও জনগণকে উদ্বুদ্ধ করছেন সাঁড়া জাগিয়েছে গোটা দেশে। যার ফলশ্রুতিতে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পতাকা তলে লক্ষ লক্ষ মানুষ একাত্মতা প্রকাশ করছে। তারেক রহমানের যোগ্য নেতৃত্বে আজ বাংলাদেশের মানুষ ফুসে উঠেছে যা প্রকারান্তরে সুনামীতে পরিণত হয়েছে। শহীদ জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার যোগ্য উত্তরাধিকার হিসেবে তারেক রহমান জনগণের আকাঙ্খাকে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন। দেশ আজ ক্ষত বিক্ষত। তারেক রহমান বিশ্বাস করেন, ক্ষত বিক্ষত বাংলাদেশকে শূণ্য থেকে নতুন করে গড়ে তুলতে প্রয়োজন দেশপ্রেমিক, মেধাবী, উদ্যমী এবং নিবেদিত প্রাণ। সে লক্ষ্যেই তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, এই কর্তৃত্ববাদী সরকারের পতন এবং মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার  মিছিলে যেসব গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দল শামিল হবে তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনোত্তর ‘জাতীয় সরকার’ গঠন করা হবে। শুধু তাই নয় শহীদ জিয়ার মত তিনিও বিশ্বাস করেন দেশ বরেণ্য  ব্যক্তিদের দেশের উন্নয়নে অংশগ্রহণ জরুরী। সে লক্ষ্যে তিনি ‘দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট’ গঠনের কথাও বলেছেন, যেখানে দেশ বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ তাঁদের মেধা, মনন এবং অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে সক্ষম হবেন।

জিয়াউর রহমান যেমন এ ভূ-খন্ডের মানুষকে স্বাধীনতা দিয়েছেন ঠিক তেমনি খালেদা জিয়া স্বৈরাচার মুক্ত বাংলাদেশ উপহার দিয়েছেন। তাঁদের সুযোগ্য পুত্র তারেক রহমান জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা এবং ফ্যাসিস্ট ও কর্তৃত্ববাদী মুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে ক্যারিজম্যটিক নেতৃত্বের মাধ্যমে গণজাগরণ সৃষ্টি করেছেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বেই বাংলাদেশ মাফিয়া মুক্ত হবেই। আজ যারা তরুণ, যাদের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করার সৌভাগ্য হয়নি, তাদের সামনে এক সুবর্ণ সুযোগ এসেছে আরেকটি যুদ্ধে অংশগ্রহণের। যে যুদ্ধ ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার যুদ্ধ। আসুন আমরা সবাই তারেক রহমানের নেতৃত্বে ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’ এ শরিক হয়ে আত্মনির্ভরশীল এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে একাত্মতা প্রকাশ করি।

সহায়ক গ্রন্থ

* মাহফুজ উল্লাহ, ২০১৬, ‘প্রেসিডেন্ট জিয়ার রাজনৈতিক জীবনী’, অ্যাডর্ন পাবলিকেশনস, সেগুন বাগিচা ঢাকা।
* ড. এমাজউদ্দীন আহমেদ ২০০৪, ‘রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান এবং আজকের বাংলাদেশ’, শ্যালেন প্রিন্টার্স লিমিটেড, কমলাপুর ঢাকা।
*  Talukder, Moniruzzaman, 1982, ‘Group Interest and Political Changes: Studies on Pakistan and Bangladesh’, South Asian Publishers, New Delhi।
* Rehman Shobhan, 2016, ‘Untranquial Recollections: The years of fulfilment’, Sage Publications, New Delhi। 
* ড. এমাজউদ্দীন আহমেদ ২০০২, ‘খালেদা জিয়ার রাজনীতি’, সেতু প্রকাশন, বাংলাবাজার ঢাকা।
* ড. কে এ এম শাহদত হোসেন মন্ডল, ২০১৩, ‘জননন্দিত দেশনেত্রী’, শিকড় বাংলাবাজার ঢাকা। 
* ড. কাজী আব্দুস সামাদ, ২০১৩, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক দর্শন’, দৈনিক দিনকাল।
* সামিউল আহমদ খান, ২০১৩, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে বেগম জিয়া’, শিকড় বাংলাবাজার ঢাকা। 
* উল্লাহ্, মাহবুব (২০১৩) ‘তারেক রহমান ঃ একটি একান্ত ভাবনা’, শিকড়, ৩৮ বাংলাবাজার, ঢাকা।
* সিদ্দিকী, রেজোয়ান (২০১৩) ‘জাতীয়তাবাদী বাংলাদেশের প্রতীক তারেক রহমান’, শিকড়, ৩৮ বাংলাবাজার, ঢাকা। 
* মোহাম্মদ, হাসান (২০১০) ‘ভূ-খন্ডকেন্দ্রিক জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ভবিষ্যৎ কান্ডারী’, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন, গুলশান, ঢাকা। 

লেখক : ড. এ কে এম মতিনুর রহমান, প্রফেসর, লোক প্রশাসন বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া এবং সহ-সভাপতি, ইউট্যাব। ড. মোর্শেদ হাসান খান, শিক্ষক, মার্কেটিং বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; সহ-প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক, বিএনপি, জাতীয় নির্বাহী কমিটি ও মহাসচিব (ইউট্যাব)। 
 

avertisements
বইমেলায় চাঁদাবাজি : ঢাবি ছাত্রলীগের দুই নেতা বহিষ্কার
বইমেলায় চাঁদাবাজি : ঢাবি ছাত্রলীগের দুই নেতা বহিষ্কার
২৫ ফেব্রুয়ারি দেশের সব জেলায় বিএনপির পদযাত্রা
২৫ ফেব্রুয়ারি দেশের সব জেলায় বিএনপির পদযাত্রা
নতুন পাঠ্যক্রমের ওপর জঙ্গি হামলা হয়েছে : শিক্ষামন্ত্রী
নতুন পাঠ্যক্রমের ওপর জঙ্গি হামলা হয়েছে : শিক্ষামন্ত্রী
দেশে একনায়কতন্ত্র চলছে : জি এম কাদের
দেশে একনায়কতন্ত্র চলছে : জি এম কাদের
মাঠ পর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকালে অবশ্যই অফিসে থাকতে হবে
মাঠ পর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকালে অবশ্যই অফিসে থাকতে হবে
লুটপাটের জন্য আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা : মির্জা আব্বাস
লুটপাটের জন্য আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা : মির্জা আব্বাস
তাড়াশে গুলিতে আ'লীগ নেতা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নিহত
তাড়াশে গুলিতে আ'লীগ নেতা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নিহত
সংবিধান থেকে এক চুলও নড়বে না আওয়ামী লীগ : কাদের
সংবিধান থেকে এক চুলও নড়বে না আওয়ামী লীগ : কাদের
ওয়ার্ন-ম্যাকগ্রাকে ছাড়িয়ে অ্যান্ডারসন-ব্রড
ওয়ার্ন-ম্যাকগ্রাকে ছাড়িয়ে অ্যান্ডারসন-ব্রড
আ'লীগ এখন মলম পার্টিতে পরিনত হয়েছে : আলাল
আ'লীগ এখন মলম পার্টিতে পরিনত হয়েছে : আলাল
বিএনপি রাজপথে থেকেই জনগনের অধিকার আদায় করবে : গয়েশ্বর
বিএনপি রাজপথে থেকেই জনগনের অধিকার আদায় করবে : গয়েশ্বর
এই সরকারের পতন ছাড়া জনগণ ঘরে ফিরবেনা : টুকু
এই সরকারের পতন ছাড়া জনগণ ঘরে ফিরবেনা : টুকু
গাবতলীতে মরহুমা বিবি হায়াতুন নেছা তালুকদারের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত
গাবতলীতে মরহুমা বিবি হায়াতুন নেছা তালুকদারের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত
বিদেশী প্রভুদের কাছে বিএনপি নয়, সরকারই ধর্ণা দিচ্ছে : বুলু
বিদেশী প্রভুদের কাছে বিএনপি নয়, সরকারই ধর্ণা দিচ্ছে : বুলু
এই সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে : আমীর খসরু
এই সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে : আমীর খসরু
কর্ণেল আজিমের রোগমুক্তি কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
কর্ণেল আজিমের রোগমুক্তি কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
অরাজনৈতিক হয়েও রাজনৈতিক হয়রানির শিকার ডা. জুবাইদা রহমান
অরাজনৈতিক হয়েও রাজনৈতিক হয়রানির শিকার ডা. জুবাইদা রহমান
এ প্রতিহিংসার শেষ কোথায়!
এ প্রতিহিংসার শেষ কোথায়!
জার্মান বিএনপির সভাপতি আকুল মিয়ার মাতার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ
জার্মান বিএনপির সভাপতি আকুল মিয়ার মাতার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ
বিনিয়োগকারীদের ২৪ হাজার কোটি টাকা লাপাত্তা
বিনিয়োগকারীদের ২৪ হাজার কোটি টাকা লাপাত্তা
গুন্ডা-মাস্তান থেকে চেয়ারম্যান হয়েছি-শামিম (ভিডিওসহ)
গুন্ডা-মাস্তান থেকে চেয়ারম্যান হয়েছি-শামিম (ভিডিওসহ)
গুন্ডা-মাস্তান থেকে চেয়ারম্যান হয়েছি-শামিম (ভিডিওসহ)
গুন্ডা-মাস্তান থেকে চেয়ারম্যান হয়েছি-শামিম (ভিডিওসহ)
কণ্ঠে আহাজারি শুনি নাই, চোখে আগুন দেখেছি : মির্জা ফখরুল
কণ্ঠে আহাজারি শুনি নাই, চোখে আগুন দেখেছি : মির্জা ফখরুল
ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী নতুন নিয়োগ বিধিমালা নিয়ে অসন্তোষ
ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী নতুন নিয়োগ বিধিমালা নিয়ে অসন্তোষ
শিক্ষার টেকসই উন্নয়ন, প্রসার ও কর্মমুখীকরণে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়া ও বিএনপির ভূমিকা
শিক্ষার টেকসই উন্নয়ন, প্রসার ও কর্মমুখীকরণে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়া ও বিএনপির ভূমিকা
ভোলা থেকে রাতের আঁধারে পালিয়ে এসেছিল এসআই কনক
ভোলা থেকে রাতের আঁধারে পালিয়ে এসেছিল এসআই কনক
রাজনীতিকে আওয়ামীকরণ
রাজনীতিকে আওয়ামীকরণ
ধামরাইয়ে যুবলীগ নেতা সহ ৬ ব্যাক্তির নামে আদালতে চাঁদাবাজী মামলা দায়ের
ধামরাইয়ে যুবলীগ নেতা সহ ৬ ব্যাক্তির নামে আদালতে চাঁদাবাজী মামলা দায়ের
ধামরাইয়ে যুবলীগ নেতা সহ ৬ ব্যাক্তির নামে আদালতে চাঁদাবাজী মামলা দায়ের
ধামরাইয়ে যুবলীগ নেতা সহ ৬ ব্যাক্তির নামে আদালতে চাঁদাবাজী মামলা দায়ের
ধামরাইয়ে বাসা বাড়িতে দেহ ব্যাবসার অভিযোগ
ধামরাইয়ে বাসা বাড়িতে দেহ ব্যাবসার অভিযোগ
avertisements
avertisements