avertisements
Text

আক্তারুজ্জামান বাচ্চু

খেতাব কেড়ে জিয়াকে মুছে ফেলা যাবে না

প্রকাশ: ০২:২৩ এএম, ২ মার্চ,মঙ্গলবার,২০২১ | আপডেট: ০৬:৩১ পিএম, ১৫ জুলাই,সোমবার,২০২৪

Text

আল জাজিরা ঝড়ের মধ্যে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল- জামুকা, জিয়াউর রহমানের ‘বীর উত্তম’ খেতাব বাতিলের প্রস্তাব তুলে বিতর্কের ঝড় তুলেছে খামোখা! স্বাধীনতা পরবর্তী তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সর্বোচ্চ ‘বীর উত্তম’ খেতাব দিয়েছিলেন। আর বর্তমান আওয়ামীলীগের একজন বিতর্কিত মন্ত্রী যিনি এক সময় জাসদ করতেন, জাসদ গণবাহিনীর সদস্যদের গায়ে হাজারো মানুষের রক্তের দাগ লেগে আছে।

জামুকার সভায় সাবেক জাসদ নেতা শাহজাহান খানের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে জামুকা স্বাধীনতার ৫০ বছর পর জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিলের প্রস্তাব গ্রহণ করে ক্ষোভ ও বিতর্ক উস্কে দেয়ার পাশাপাশি স্বাধীনতা পরবর্তী শেখ মুজিবের আওয়ামী লীগ সরকারকেই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিল! শাহজাহান খান ও তার তৎকালীন দল জাসদ শেখ মুজিব হত্যার পর লিফলেট ছাপিয়েছিল, ‘খুনি মুজিব খুন হয়েছে, অত্যাচারীর পতন অনিবার্য’ ।

আওয়ামী লীগ বা অন্য যে কেউ জিয়াউর রহমানকে অপছন্দ করতেই পারেন। কিন্তু জিয়াউর রহমান তাঁর নিজ কর্মে সততায় ইতিহাসের অনন্য উচ্চতায় নিজের স্থান করে নিয়েছেন। কেউ চাইলেই জিয়াউর রহমানকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলতে পারবেন না, তাঁর অবদান অস্বীকার করতে পারবেন না। তিনি দেশের ক্রান্তিকালে স্বাধীনতার ঘোষণা, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ, ২২ মে ১৯৭৭ সালে আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে ১৯ দফা কর্মসূচি ঘোষণা, কৃষি বিপ্লবের ডাক, দেশ জুড়ে ঘুরে ঘুরে কৃষি জমিতে সেচের জন্য খাল কেটে দেশের জনগণের হৃদয়ে একটি স্থায়ী জায়গা করে নেন জিয়াউর রহমান।

১৫ আগস্টের পর টালমাটাল অবস্থায় দেশের মানুষ যে স্থিতিশীলতা চেয়েছিল, সেটি দিতে পেরেছিলেন জিয়াউর রহমান। তিনিই খেই হারানো বাংলাদেশকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে ফিরিয়ে আনেন। জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিগত সততা ও দেশপ্রেম, মুক্তিযুদ্ধে গৌরবোজ্জ্বল ও বীরোচিত ভূমিকাও জনমনে ও ইতিহাসে তাঁকে স্থায়ী আসন গড়ে দেয়। রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় তিন চার হাজার টাকা বেতন পেতেন। সেই বেতন থেকে ১৫০ টাকা রাষ্ট্রপতির রিলিফ ফান্ডে দান করে বাকি টাকা দিয়ে কোনোমতে সংসার চালাতেন।

আওয়ামী লীগের কেউ কেউ কথায় কথায় জিয়াউর রহমানকে ‘বাইচান্স মুক্তিযোদ্ধা’  ‘পাকিস্তানের চর’ ইত্যাদি গালি দিয়ে থাকে! স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন এসে যায়, ‘বাই চান্স’ মুক্তিযোদ্ধাকে কেন স্বাধীনতা পরবর্তী শেখ মুজিব সরকার জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সর্বোচ্চ ‘ বীর উত্তম’ খেতাব দিয়েছিল? কেন উপ সেনা প্রধান বানিয়েছিল? (যদিও জেষ্ঠ্যতার ভিত্তিতে করলে জিয়াউর রহমানই সেনা প্রধান হতেন)। আসলে ইতিহাসে যার যার স্থান নির্ধারিত। কাউকে ছোট করে কারো বড়ত্ব প্রকাশ পায় না! জিয়াউর রহমানের খেতাব কেড়ে নেয়া বা নাম মুছে ফেলার অতি উৎসাহী আওয়ামীলীগারদের হিংসার রাজনীতির অপচেষ্টা কখনো সফল হবে না। কারণ জিয়া শুধু স্বাধীনতার ঘোষণাই দেননি, তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রথম ব্রিগেড তাঁর নামের আদ্যক্ষর দিয়ে ‘জেড ফোর্স’ গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডারদের মধ্যে জিয়াই একমাত্র সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। জামুকার সভায় জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিলের শাহজাহান খানের বিতর্কিত প্রস্তাব আল জাজিরা টেলিভিশন মাফিয়া সরকার আখ্যা দেয়া বর্তমান সরকারকে আরও বিতর্কিতই করছে। এসব করে সরকারের নষ্ট ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার সম্ভবতো নয়-ই, বরং আল জাজিরার ঝড়ের তর সইতে না পেরে জনদৃষ্টি ভিন্ন দিকে সড়ানোর অপপ্রয়াস হিসাবেই দেখছে দেশের মানুষ। সরকার যত দ্রুত প্রতিহিংসার জায়গা থেকে সরে এসে খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করবে ততই উত্তম। নইলে প্রতিহিংসার আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে সর্বত্র যার পূর্বাভাস পাওয়া গেছে পদক বাতিলের প্রতিবাদে বিএনপি’র শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশী হামলায় নেতা-কর্মীদের রক্তাক্ত হওয়া ও প্রতিরোধ গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে। ব্রিটিশ শাসনামলে কবি রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন,/এ দুর্ভাগা দেশ হতে হে মঙ্গলময়/দূর করে দাও তুমি সর্ব তুচ্ছ ভয়/লোকভয়, রাজভয়, মৃত্যুভয় আর!

ব্রিটিশ শাসনের অবসান হয়েছে, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পরাক্রমশালী পাকিস্তানী বাহিনীকে চরম গ্লানিকরভাবে আত্মসমর্পণ করতে হয়েছে! লাখো শহীদের আত্মহত্যা ও মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে  আমরা একটি স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি। আমরা ভেবেছিলাম দূর্যোগের অবসান হয়েছে। কেউ আর আমাদের ভয় দেখাতে পারবে না। ভীতির সংস্কৃতি আমাদের স্তব্ধ করে দিতে পারবে না। দৈনন্দিন জীবনে যত দুঃখ-কষ্টই থাকুক না কেন মুখ ফোটে, বুক ফুলিয়ে আমরা মনের সব কথা নির্ভয়ে প্রকাশ করতে পারবো।কিন্তু ভীতির সংস্কৃতি  এতই ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করেছে যে ১৮ কোটি মানুষের দেশটি যেন আজ নির্বাক হয়ে গেছে!

প্রবীন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান তাঁর নতুন বই From Two Economics to two Nations- My Journey to Bangladesh. গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বলেন, ‘ ওইসব দিনে ফিরে গেলে ( অর্থাৎ পাকিস্তান আমলে) এটা ভাবি, কিভাবে এসব কথা বলতাম! এসব কথা বলার আগে ডান বাম চিন্তা করতাম না। কিন্তু এখন কোন লেখা লিখতে গেলে এটি প্রকাশের আগে এক সপ্তাহ লেগে যায় এবং পাঁচবার পড়ে মত দেন রওনক ( তাঁর স্ত্রী)। স্বাধীন বাংলাদেশে আজ অন্য সবার মত আমাকেও আজকাল প্রতিটি শব্দ নিয়ে ভাবতে হয়। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সময় এবং পাকিস্তান সামরিক শাসনের আমলে আমরা টেবিলে বসেই দুই ঘন্টায় যেকোনো কিছু লিখতে পারতাম।’

রেহমান সোবহানের মত মানুষ যদি মন খুলে কথা বলতে পারেন, লিখতে না পারেন- দেশের সাধারণ মানুষের কি অবস্থা সহজেই অনুমেয়! স্বাধীনতার মূল চেতনা গণতন্ত্র, বাক স্বাধীনতা, শোষণমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন অধরাই রয়ে গেছে। দেশের মানুষের কাছে স্বাধীনতা আজ মর্মবেদনায় পরিণত হয়েছে। রাস্তায় বেরুলেই মনে হয় লক্ষ্যহীন , স্বপ্নহীন, নিস্প্রাণ মানুষগুলো যন্ত্রের মত চলাফেরা করছে!

বুঝার উপায় নেই যে দেশে একটি সরকার রয়েছে! ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারী একতরফা ভোটারবিহীন নির্বাচন! ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ২৯ ডিসেম্বরের রাতে প্রশাসনের সহায়তায় প্রহসনের একটি নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার, কথা বলার অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে! বিচার বিভাগকে দলীয়করন ও আইনের শাসনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দূর্নীতি, লুট-পাটের মহোৎসব চলছে সর্বত্র। জনমনে একটা ধারণা তৈরি হয়েছে যে ক্ষমতাসীনরা ইতিমধ্যে জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও দেশের স্বার্থের ব্যাপারে আপোস করে ফেলেছে। তারা স্বাধীনতার চেতনা ধারণ করার পরিবর্তে দখলে রাখতে ব্যস্ত!

আসলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ইতিহাস কখনো সুখকর নয়। স্বাধীনতা পরবর্তী পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ভূমিকা সবারই জানা,কিভাবে একটার পর একটা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা হয়েছিল, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার নিষ্ঠুরভাবে দমন করা হয়েছিল। জনগণের লালিত আকাঙ্খা ও মূল্যবোধ একের পর এক ধ্বংস করে গণতন্ত্রকে কবর দেয়া হয়েছিল। জনগণকে পায়ের নিচে পিষ্ঠ করে জাতির উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল ফ্যাসিস্ট একনায়কতন্ত্র । সরকারের কার্যকলাপে জনগণের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ ছিল। জনগণ ও সেনাবাহিনীর মধ্যে একটা ধারণা তৈরি হয়েছিল যে তারা যখন নিজেদের জীবন বিপন্ন করে স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছেন, তখন আওয়ামী লীগের নেতারা কলকাতায় নিরাপদ দিন কাটিয়েছেন। এছাড়া ১৯৭২ সালের মার্চে ভারতের সঙ্গে ২৫ বছর মেয়াদি শান্তি, মৈত্রী ও সহযোগিতা চুক্তি হওয়ার ফলে অনেকের ধারণা হয় যে দেশে একটা কার্যকর সেনাবাহিনীর দরকার নেই। ১৯৭৪ সালে শেখ মুজিব সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাসকে বলেছিলেন যে তিনি একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী তৈরির বিরুদ্ধে। আমরা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মত একটা দানব সৃষ্টি করতে চাই না।’ রক্ষীবাহিনী গঠন ও তাদের কার্যকলাপ এবং ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার অংশ হিসাবে একদলীয় বাকশাল কায়েমে জনগণ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের আস্থাভাজন ছিলেন সেনাপ্রধান কে এম শফিউল্লাহ ১৯৯৩ সালে ভোরের কাগজের সম্পাদক মতিউর রহমানকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘ তখন সরকারের কিছু কার্যকলাপে জনগণের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছিল। আবার সেনাবাহিনীর মধ্যেও অসন্তোষ ছিল। সরকারবিরোধী কিছু রিজনৈতিক শক্তি এই অবস্থায় সুযোগের সদ্ব্যবহার করেছে। এদের অবস্থান সরকারের ভেতরেও ছিল, বাইরেতো ছিলই। দেশের তৎকালীন অবস্থায় বাকশাল গঠন নিয়ে সেনাবাহিনীর মধ্যে প্রতিক্রিয়া ছিল। আমার মধ্যেও কিছু প্রশ্ন ছিল। সেগুলো নিয়ে আমি কথা বলেছিলাম।’

১৫ আগস্ট শেখ মুজিব সপরিবারে নিহত হওয়ার পর মৃতদেহ ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ৩২ ঘন্টা পড়ে ছিল। ১৬ আগস্ট সরকারি ইংরেজি দৈনিক দ্য অবজারভার-এর প্রধান শিরোনামের প্রথম অংশটি ছিল- ‘আর্মড ফোর্সেস টেকওভার’।অবজারভার-এ ‘ হিস্টোরিকেল নেসেসিটি’ শিরোনামে সম্পাদকীয় ছাপা হয়। দৈনিক ইত্তেফাক-এর প্রথম পাতায় সম্পাদকীয় শিরোনাম ছিল ‘ ঐতিহাসিক নবযাত্রা ‘।

অধ্যাপক আহমেদ শরীফ ডায়েরিতে লেখেন, ‘ মুজিবকে যারা হত্যা করল, তারা গোড়ায় সবাই মুজিবের অনুগতই ছিল। শেঠ মুজিবের সাড়ে তিন বছরের দুঃশাসন,  হত্যা লুন্ঠনের বিভীষিকা মুজিবকে গণশত্রুতে পরিণত করেছিল।

১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের আগস্ট অবধি মুজিব শাসন হচ্ছে ত্রাসের, হত্যার, কাড়ার, মারার, জোর-জুলুমের, স্বৈরাচারের , দূর্ভীক্ষের, পীড়নের, শোষণের, জবরদখলের ও হৃদকাঁপানো বিভৎস রুপ। তাই তার সপরিবারে হত্যায়ও কেউ দুঃখশোক পায়নি।’

১৫ আগস্ট পরবর্তী টালমাটাল অবস্থায় ৩রা নভেম্বর খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে অভ্যূথ্থানে প্রথম বেঙ্গল রেজিমেন্টের একটি দল ক্যাপ্টেন হাফিজুল্লার নেতৃত্বে সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী করে। ৭ ই নভেম্বর ঐতিহাসিক সিপাহী জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান মুক্ত হন, ১৯৭১ এর পর মৃত্যুর দুয়ার থেকে পবার ফিরে এলেন জিয়াউর রহমান।

জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর পর প্রথম বেতার ও টেলিভিশন  ভাষনে বলেন, আমি ও আমার সরকার পূর্ণ গনতন্ত্রে বিশ্বাসী এবং দেশে যথাসময়ে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার পূনঃপ্রতিষ্ঠায় সংকল্পবদ্ধ। জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস এবং সরকারের প্রতিটি কাজে ও নীতিতে জনগণের আশা আকাঙ্খার পূনঃপ্রতিফলন নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।’

জিয়া ক্ষমতাসীন হয়ে একে একে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্র দিলেন, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও দূর্নীতি লুট-পাটের বিপরীতে সততার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন  করলেন। দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনলেন। সেনানায়ক থেকে জননায়কে পরিণত হলেন। স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়নসহ জিয়াউর রহমানের অনেক সিদ্ধান্তই পার্শ্ববর্তী একটি রাষ্ট্রের উষ্মার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্রগ্রাম সার্কিট হাউজে নির্মমভাবে নিহত হলেন জিয়াউর রহমান।

‘এনেছিলে সাথে করে মৃত্যুহীন প্রাণ
মরণে তাহাই তুমি করে গেলে দান ‘।

বিখ্যাত লেখক জর্জ অরওয়েলের ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত ‘১৯৮৪’ পলিটিক্যাল স্যাটায়ার কালোত্তীর্ণ হয়েছে। অনেক যুগের অবসান হয়েছে, প্রযুক্তিগত উন্নতি, আর্থ সামাজিক উন্নতি ও রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হলেও তার লেখার সঙ্গে বর্তমান বাংলাদেশের একনায়কতান্ত্রিক রাজনীতি ও দূর্নীতিগ্রস্ত রাষ্ট্রযন্ত্র পরিচালনা পদ্ধতির অসামান্য মিল পরিলক্ষিত হয়।

‘ ১৯৮৪‘ বইটিতে জর্জ অরওয়েল এমপ এক বিশ্বের চিত্র ভবিষ্যতবাণী বা বর্ননা করেন, যেখানে অর্থনীতি নিয়ন্ত্রিত হবে মুষ্টিমেয় সম্পদ লুন্ঠনকারী ও ভোগবাদীদের হাতে। যে সমাজে নিজ নিজ স্বার্থ রক্ষাকারী অসৎ রাজনীতিবিদ ও তাঁদের তল্পীবাহক সুবিধাবাধী বুদ্ধিজীবিরা জনগণকে বুঝাতে সচেষ্ট হবেন যে দু’য়ে দু’য়ে পাঁচ। শঠতা ও চাতুর্যের সাথে তারা দিনকে রাত ও রাতকে দিন বানানোর চেষ্টা করবেন। তারা মানুষকে নিয়ন্ত্রণের জন্য ইতিহাস নিয়ন্ত্রণ করবেন। অরওয়েল লেখেন,'Who controls the past, controls the future, who controls the present, controls the past.'

জীবন মৃত্যুতেই শেষ হয়ে যায়। কিন্তু কারো কারো মৃত্যুকে কুর্নিশ করে ইতিহাস। মৃত্যুর মধ্য দিয়ে তাঁরা রক্ত মাংশের দেহ ফেলে উঠে যান এমন অমরত্বের সোপানে যার আর ক্ষয় নেই! ইতিহাসে তাদের স্থান থাকে পাহাড়ের চেয়েও উচুঁতে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন তেমনি একজন মানুষ। নৈতিকতা হারানো দুনিয়ায় সততা ও নৈতিকতার ভরকেন্দ্র হয়ে আছেন শহীদ জিয়া।

সাম্রাজ্যবাদী ও ফ্যাসিবাদী মাফিয়াদের গুম, খুন, দূর্নীতি, লোট-পাট, শোষণ নির্যাতনকারী একনায়ক চেপে বসেছে জাতির ঘাড়ের উপর।

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কারাবন্ধী হওয়া, এখনকার গৃহবন্দীত্ব ও বাংলাদেশের ভবিষ্যত দেশনায়ক তারেক রহমানকে ফ্যাসিবাদী সরকারের রোষানলে পড়ে দেশে আসতে না পারা আমাদের অপরাধী করে দেয়।

জিয়াউর রহমান জনকল্যাণেরাজনীতি করেছিলেন। আর আজকের ক্ষমতাসীনরা রাজনীতিকে ব্যবসার ক্ষেত্র না বানিয়ে ফেলেছে , ব্যাংক ব্যালেন্স বাড়ানো, লুট-পাট, বিদেশে টাকা পাচার ও বেগম পাড়া বানানোয় ব্যস্ত সময় পাড় করছে। ত্যাগ থেকে রাজনীতিকে ভোগের পণ্য বানিয়ে ফেলেছে! দেশের এই দূঃশাসন ও দূঃসময়ে জনগণকে সংগ্রামে উদ্ধুদ্ধ করার , মুক্তিকামী মানুষকে পথ দেখানোর সুযোগ বিএনপি যেন হাতছাড়া না করে-এটাই জাতির প্রত্যাশা। স্বাধীনতার ৫০ বছর পর স্বাধীনতার ঘোষকের খেতাব কেড়ে নিয়ে জিয়াকে মানুষের হৃদয় থেকে মুছে ফেলার অপচেষ্টা হাস্যকর ও জাতিসত্বার জন্য অবমাননাকর । আসলে একটি রাজনৈতিক দলের আদর্শ ও কর্মসূচীকে মোকাবেলা করার মত আদর্শ ও কর্মসূচী প্রণয়নে ব্যর্থ একনায়কেরাই অতীত ইতিহাস মুছে ফেলার ব্যর্থ অপপ্রয়াস চালিয়েছে যুগে যুগে। ইতিহাস বলে এমন অপচেষ্টা অতীতে কখনো সফল হয়নি, এখনো হবে না।

লেখক : আক্তারুজ্জামান বাচ্চু
রাজনীতিক, কলামিস্ট

লেখকের আরও লেখা

avertisements
বইমেলায় চাঁদাবাজি : ঢাবি ছাত্রলীগের দুই নেতা বহিষ্কার
বইমেলায় চাঁদাবাজি : ঢাবি ছাত্রলীগের দুই নেতা বহিষ্কার
২৫ ফেব্রুয়ারি দেশের সব জেলায় বিএনপির পদযাত্রা
২৫ ফেব্রুয়ারি দেশের সব জেলায় বিএনপির পদযাত্রা
নতুন পাঠ্যক্রমের ওপর জঙ্গি হামলা হয়েছে : শিক্ষামন্ত্রী
নতুন পাঠ্যক্রমের ওপর জঙ্গি হামলা হয়েছে : শিক্ষামন্ত্রী
দেশে একনায়কতন্ত্র চলছে : জি এম কাদের
দেশে একনায়কতন্ত্র চলছে : জি এম কাদের
মাঠ পর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকালে অবশ্যই অফিসে থাকতে হবে
মাঠ পর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকালে অবশ্যই অফিসে থাকতে হবে
লুটপাটের জন্য আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা : মির্জা আব্বাস
লুটপাটের জন্য আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা : মির্জা আব্বাস
তাড়াশে গুলিতে আ'লীগ নেতা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নিহত
তাড়াশে গুলিতে আ'লীগ নেতা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নিহত
সংবিধান থেকে এক চুলও নড়বে না আওয়ামী লীগ : কাদের
সংবিধান থেকে এক চুলও নড়বে না আওয়ামী লীগ : কাদের
ওয়ার্ন-ম্যাকগ্রাকে ছাড়িয়ে অ্যান্ডারসন-ব্রড
ওয়ার্ন-ম্যাকগ্রাকে ছাড়িয়ে অ্যান্ডারসন-ব্রড
আ'লীগ এখন মলম পার্টিতে পরিনত হয়েছে : আলাল
আ'লীগ এখন মলম পার্টিতে পরিনত হয়েছে : আলাল
বিএনপি রাজপথে থেকেই জনগনের অধিকার আদায় করবে : গয়েশ্বর
বিএনপি রাজপথে থেকেই জনগনের অধিকার আদায় করবে : গয়েশ্বর
এই সরকারের পতন ছাড়া জনগণ ঘরে ফিরবেনা : টুকু
এই সরকারের পতন ছাড়া জনগণ ঘরে ফিরবেনা : টুকু
গাবতলীতে মরহুমা বিবি হায়াতুন নেছা তালুকদারের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত
গাবতলীতে মরহুমা বিবি হায়াতুন নেছা তালুকদারের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত
বিদেশী প্রভুদের কাছে বিএনপি নয়, সরকারই ধর্ণা দিচ্ছে : বুলু
বিদেশী প্রভুদের কাছে বিএনপি নয়, সরকারই ধর্ণা দিচ্ছে : বুলু
এই সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে : আমীর খসরু
এই সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে : আমীর খসরু
কর্ণেল আজিমের রোগমুক্তি কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
কর্ণেল আজিমের রোগমুক্তি কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
অরাজনৈতিক হয়েও রাজনৈতিক হয়রানির শিকার ডা. জুবাইদা রহমান
অরাজনৈতিক হয়েও রাজনৈতিক হয়রানির শিকার ডা. জুবাইদা রহমান
এ প্রতিহিংসার শেষ কোথায়!
এ প্রতিহিংসার শেষ কোথায়!
জার্মান বিএনপির সভাপতি আকুল মিয়ার মাতার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ
জার্মান বিএনপির সভাপতি আকুল মিয়ার মাতার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ
বিনিয়োগকারীদের ২৪ হাজার কোটি টাকা লাপাত্তা
বিনিয়োগকারীদের ২৪ হাজার কোটি টাকা লাপাত্তা
গুন্ডা-মাস্তান থেকে চেয়ারম্যান হয়েছি-শামিম (ভিডিওসহ)
গুন্ডা-মাস্তান থেকে চেয়ারম্যান হয়েছি-শামিম (ভিডিওসহ)
গুন্ডা-মাস্তান থেকে চেয়ারম্যান হয়েছি-শামিম (ভিডিওসহ)
গুন্ডা-মাস্তান থেকে চেয়ারম্যান হয়েছি-শামিম (ভিডিওসহ)
কণ্ঠে আহাজারি শুনি নাই, চোখে আগুন দেখেছি : মির্জা ফখরুল
কণ্ঠে আহাজারি শুনি নাই, চোখে আগুন দেখেছি : মির্জা ফখরুল
ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী নতুন নিয়োগ বিধিমালা নিয়ে অসন্তোষ
ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী নতুন নিয়োগ বিধিমালা নিয়ে অসন্তোষ
শিক্ষার টেকসই উন্নয়ন, প্রসার ও কর্মমুখীকরণে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়া ও বিএনপির ভূমিকা
শিক্ষার টেকসই উন্নয়ন, প্রসার ও কর্মমুখীকরণে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়া ও বিএনপির ভূমিকা
ভোলা থেকে রাতের আঁধারে পালিয়ে এসেছিল এসআই কনক
ভোলা থেকে রাতের আঁধারে পালিয়ে এসেছিল এসআই কনক
রাজনীতিকে আওয়ামীকরণ
রাজনীতিকে আওয়ামীকরণ
ধামরাইয়ে যুবলীগ নেতা সহ ৬ ব্যাক্তির নামে আদালতে চাঁদাবাজী মামলা দায়ের
ধামরাইয়ে যুবলীগ নেতা সহ ৬ ব্যাক্তির নামে আদালতে চাঁদাবাজী মামলা দায়ের
ধামরাইয়ে যুবলীগ নেতা সহ ৬ ব্যাক্তির নামে আদালতে চাঁদাবাজী মামলা দায়ের
ধামরাইয়ে যুবলীগ নেতা সহ ৬ ব্যাক্তির নামে আদালতে চাঁদাবাজী মামলা দায়ের
ধামরাইয়ে বাসা বাড়িতে দেহ ব্যাবসার অভিযোগ
ধামরাইয়ে বাসা বাড়িতে দেহ ব্যাবসার অভিযোগ
avertisements
avertisements